1. abutalha6256@gmail.com : abdul kadir : abdul kadir
  2. abutalha625616@gmail.com : abu talha : abu talha
  3. asadkanaighat@gmail.com : Asad Ahmed : Asad Ahmed
  4. izharehaq24@gmail.com : mzakir :
বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১, ০৯:৪২ অপরাহ্ন

মোল্লাতন্ত্র বনাম উম্মাহ চেতনা

সৈয়দ মবনু
  • প্রকাশটাইম: মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২১

পৃথিবীর বেশিভাগ ধর্মই আলো থেকে বিচ্যুত হয়ে অন্ধকারের পথে তখনই হেঁটেছে; যখন ধর্মগুলো শাস্ত্র বাদ দিয়ে শাস্ত্রিককে গুরুত্ব দিয়েছে বেশি, শাস্ত্রিকেরা এই সুযোগে শাস্ত্রের অপব্যাখ্যা দিয়ে সাধারণ মানুষকে নিজেদের ইচ্ছে মতো চালাতে শুরু করেছেন, সাধারণ মানুষ যাতে শাস্ত্রিকদের চালাকি বুঝতে না পারেন সেই উদ্দেশ্যে তারা বিশ্বাসী জনগোষ্ঠিকে দূরে রেখে নিজেদের মধ্যে সংঘবদ্ধতা শুরু করেন। ধীরে ধীরে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে নিজেদের সংঘকে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের মতো লাভ-ক্ষতির হিসাবে নিয়ে দাঁড় করিয়ে নিয়েছেন। অতঃপর একই ধর্মে দুটি গ্রুপ হয়ে যায়-ধর্মের বিশ্বাসী গ্রুপ এবং ধর্মের শাস্ত্রিক গ্রুপ। একটা সময়ে এসে ধর্মের বিশ্বাসী গ্রুপ যখন ধর্মের শাস্ত্রিক গ্রুপের কাছে বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হতে থাকেন তখন উভয় গ্রুপে মৌন, গৌণ দ্বন্দ্ব শুরু হয়। যুগ যুগে ধর্মের মধ্যে যত গৃহযুদ্ধ হয়েছে তার বেশিভাগ ধর্মের সাথে নয়, ছিলো ধর্মগুরুদের সিন্ডিকেটের সাথে।


প্রথম দিকে ধর্মের বাইরে কোন দর্শন ছিলো না। ফলে শাস্ত্রিকেরা খুব সহজে শাস্ত্রদর্শন উপস্থাপন করে মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারতেন। কিন্তু মানুষ তো প্রবাহমান জলের নাম, সে তার পথ তৈরি করে ফেলে যেকোন সূত্রে। দেখতে দেখতে ধর্মশাস্ত্রের পাশাপাশি অসংখ্য চিন্তা-দর্শন তৈরি হয়েগেলো পৃথিবী ব্যাপি। কোন কোন মানুষ এগুলোকেও ধর্মের মতো মানতে শুরু করলো। এখানে ধর্মের সাথে দর্শনের সংঘাত শুরু হলো। এই সংঘাতে উভয়গ্রুপ যখন নিজেদেরকে বিজয়ী করতে আদর্শ থেকে গোষ্ঠিতান্ত্রিক চিন্তাকে বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করলেন তখনই গোটা পৃথিবী ব্যাপকহারে অন্ধকার হতে থাকে। এই অন্ধকারের এক পর্যায়ে বা চূড়ান্ত পর্যায়ে হযরত মুহাম্মদ (স.) কর্তৃক ইসলাম ধর্মের প্রচার শুরু। পৃথিবীর আদি থেকে ইসলামের সূচনাযুগ পর্যন্ত যত ধর্ম, যত দর্শন, যত চিন্তা রয়েছে সবগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং অস্বীকার করে ইসলাম নিজকে আর নিচক ধর্ম না রেখে দ্বীন হিসাবে যাত্রা শুরু করে। ইসলামের বিশ্বাসীরা এক সময় ছিলো সংখ্যায় অল্প এবং নিজেদের মধ্যে সংঘবদ্ধ। উস্তাদ বা নেতা ছিলেন একজন-হযরত মুহাম্মদ (স.), যিনি নবী ও রাসুল। বাকী সবাই অনুসারী-সাহাবী। ধীরে ধীরে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেতে শুরু হয়। মূল নেতার বিদায়ের পর ধীরে ধীরে শুরু হয় গ্রুপিং। গ্রুপিং থেকে ধীরে ধীরে নিজেদের মধ্যে সংঘাত। এই সকল সংঘাতের মূলে দুইটা শ্রেণীর অবদান বেশি; প্রথম শ্রেণী-রাজনীতিবিদ, দ্বিতীয় শ্রেণী-শাস্ত্রিক (আলেম-উলামা, মুফতি, মুহাদ্দিস সাহেবান)।

এক সময় রাজনীতিবিদদেরকে প্রভাবিত এবং জনগণকে নিয়ন্ত্রণ করতে শাস্ত্রিকরা অর্থাৎ আলেম-উলামা, মুফতি, মুহাদ্দিস সাহেবানরা সংঘবদ্ধ হতে থাকেন। শুরু হয় রাজনীতিবিদদের সাথে তাদের সংঘবদ্ধতা কিংবা দূরত্ব বা সংঘাত। সাধারণ প্রজা বা মানুষ দুভাগে বিভক্ত হতে থাকে। এভাবেই এক সময় ইসলামেও ধার্মিক এবং অধার্মিক শ্রেণী সৃষ্টি হতে থাকে। মুসলিম জনগণ বেশিরভাগই থাকতো আলেম-উলামা, মুফতি, মুহাদ্দিস সাহেবানদের পক্ষে। রাজনীতিবিদরা তাই ধর্মকেও নিজেদের পক্ষে রাখার জন্য আলেমদের সাথে যোগাযোগ শুরু করেন। এটা শত শত বছরের ইতিহাস।




ভারতবর্ষে বৃটিশ শাসনের দু শত বছরের যুদ্ধ, আন্দোলন, সংগ্রামের এক পর্যায়ে আলেমদের প্রচেষ্টায় মাওলানা কাসিম নানতুবী (র.)-এর নেতৃত্বে দারুল উলূম দেওবন্দের সূচনা। দারুল উলূম দেওবন্দের সূচনালগ্নে শায়খুল হিন্দ মাহমুদুল হাসান (র.)-এর নেতৃত্বে প্রথমে জমিয়তুল আনসার, যা পরবর্তিকালে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ নামে সংগঠনের জন্ম। এই সংগঠনের উদ্দেশ্য ছিলো ভারতবর্ষের সকল গ্রুপ ও চিন্তার আলেমদের মধ্যে সংঘবদ্ধতা তৈরি রাখা। কিন্তু পাকিস্তান আন্দোলনের চিন্তাকে কেন্দ্র করে এই ঐক্য ভেঙে যায় শায়খুলহিন্দের ইন্তেকালের পর। এখানেও দীর্ঘ ইতিহাস, যা আমার ‘দ্রাবীড় বাংলার রাজনীতি’ গ্রন্থ সহ বিভিন্ন গ্রন্থে বিস্তারিত রয়েছে, তাই সেদিকে যাচ্ছি না। পাকিস্তান আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম।


স্বাধীন বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে এখানে সাধারণ মানুষের সাথে আলেম-উলামাদের চিন্তাগত বেশ দূরত্ব সৃষ্টি করে দিয়েছে পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠি, মিডিয়া এবং পাকিস্তানপন্থী ধর্মীয় দলগুলোর প্রচার এবং অপপ্রচার। অবশ্য এখানে কিছু মানুষের অপরাধকে ইস্যু করে গোটা ইসলামকে অপবাদ দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বাম রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বলয় আর ভারত কেন্দ্রিক বুদ্ধিজীবি।আলেম সমাজের অসচেতনতা এবং অদূরদর্শিতা সবাইকে সুযোগ করে দিয়েছে। আলেমদের একটি বড় অংশ মনে করেছেন, রাজনীতি আমাদের কাজ নয়, তাই নিরবতাই বুদ্ধিমানের পরিচয়। কিন্তু নব্বই দশকে হযরত হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদুল্লাহ হাফেজ্জী হুজুর (র.)-এর নির্বাচনের পরে প্রজন্মগুলো আর এই নিরবতাকে মেনে নিতে পারলেন না। ধীরে ধীরে তারা প্রমাণ করতে থাকলেন আমরাও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম। বিশেষ করে যারা মুক্তিযোদ্ধা পরিবার থেকে এসেছেন। ওদের হাত ধরে ধীরে ধীরে মুক্তিযোদ্ধা আর আলেমদের সংঘাত হ্রাস পেতে থাকে। কিন্তু সংঘাত সৃষ্টিকারীরা তা সুনজরে দেখতে পারে না। শুরু হয় দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্ব চলাকালিন সময়ের এক পর্যায়ে আওয়ামীগ সরকার গঠন করে। এরপর শাহবাগের জণজাগরণ মঞ্চ আর আল্লামা আহমদ শফি (র.)-এর নেতৃত্বে হেফাজতে ইসলামের মাঠে আসা। অতঃপর সংঘাত শুরু হয় হেফাজতে ইসলামের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। এই সংঘাতের একদিকে জামায়াত-বিএনপি-জমিয়তের একাংশ এবং খেলাফত মজলিস। অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি আওয়ামীলীগ, জমিয়তের একাংশ, স্বয়ং আল্লামা আহমদ শফি ও তাঁর ভক্ত-মুরিদরা। মহাসচিব শায়খুল হাদিস মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী প্রকাশ্য চলেগেলেন জামায়াত-বিএনপি গ্রুপের সাথে। সংঘাত শুরু হলো হেফাজত, হাটাজারী এবং গোটা কওমী অঙ্গনে। এই সংঘাত চলছে এখনও। কতদিন চলবে জানি না। তবে এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হলে প্রথমে হেফাজত ইসলাম সংগঠনকেএবং ইসলামকে ‘গোষ্ঠীতন্ত্র’ ও ‘মোল্লাতন্ত্র’-এর মানসিকতা থেকে মুক্ত করতে হবে। কারণ এগুলো আমাদের মন থেকে উম্মাহ চেতনাকে একেবারে ধ্বংস করে দিচ্ছে। আজ এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে যেন ইসলামটা একা কোন গোষ্ঠীর ধর্ম। সাধারণ আবেগি জনগোষ্ঠীর জ্ঞান-বুদ্ধির অভাবে দিনদিনে এই সংঘাতটা আরও দ্রুত সংক্রামিত হচ্ছে। এভাবে বুদ্ধিশূন্য আবেগ নিয়ে চলতে থাকলে আমরা কিছুদিনের মধ্যে দেখবো এদেশের মানুষ দুভাগে বিভক্ত হয়েগেছে,




১. সাধারণ মানুষ, যেখানে ধর্ম বিশ্বাসীরা আছেন। ২. মোল্লাতান্ত্রিক আলেম-উলামা এবং তাদের সমর্থক গোষ্ঠী।




অতঃপর একে অন্যের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যাবে যেভাবে একাত্তরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলো। প্রথম দিকে মনে হবে মোল্লাতন্ত্রের বিজয় ঘটবে ধর্মের আবেগে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরাজয় ঘটবে ভৌগলিক এবং কৌশলের কারণে। এখানে কৌশল কি কি হতে পারে, তা দীর্ঘ আলোচনার বিষয়। তবে শেষ পর্যন্ত জনগণ মোল্লাতন্ত্রের পাশে থাকবে না। জনগণের যদি ভুল বুঝে বিরুদ্ধে চলে যায় তবে আর কেউ দাঁড়িয়ে থাকতে পারবেন না। আর জনগণ কেন মোল্লাতন্ত্রের পক্ষে থাকবে? যারা এগুলো তৈরি করেছেন তারা তো সাধারণ মুসলমানদের বিষয় চিন্তা করেন না। তারা তো নিজেদেরকে পৃথক একটি সম্প্রদায় করে নিয়েছেন বনী ইসরাঈলী আলেমদের মতো। তারা তো জনগণকে কোন মূল্য দিচ্ছেন না। সাধারণ মানুষ পাপ করলে তারা শরিয়তের বিধান বলে চিল্লাতে থাকেন। নিজেদের অপরাধকে বৈধ করতে হযরত ইউসুফ (আ.)-এর সময়ের আমনের পূজারী আলেমদের মতো গলাবাজী আর সিন্ডিকেট তৈরি করেন। যারা সিন্ডিকেট তৈরি করে নিজেরা অপকর্ম করেন, সাধারণ মানুষের টাকা আত্মসাৎ করেন, অনেক কালোবাজারী এবং ব্যাংকের সুদের সাথেও জড়িত, বিশাল অংকের টাকা না দিলে সাধারণ মানুষকে দ্বীনের কথাই বলেন না। সাধারণ মানুষের লবন-তেল, নিত্য প্রয়োজনীয় বিষয়ে তারা কথা বলেন না, তাদের সাথে জনগণ আসবে কেন? চিন্তা করুন।


একাত্তরের পরাজিত শক্তি অবশ্য চেষ্টা করছে এই দেশে কওমিওয়ালাদের নেতৃত্বে একটি ধর্মীয় সংঘাত হোক। এতে তারা দূরে বসে ইন্দন এবং কিছুটা সহযোগিতা করবে। যুদ্ধে হুজুরদের শক্তিক্ষয়ের পর ইসলামের নামে তারা আপোষ করে ক্ষমতার অংশিদার হবে। যেমন বিএনপি-জামায়াত জোটের সময় শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হকের সাথে হয়েছিলো। এসব সংঘাতে আলেমদের বা উম্মাহের কোন উপকার হবে না। উপকার হবে করপোরেট ইসলামিকদের। আমাদের উচিৎ গোষ্ঠীতন্ত্র, মোল্লাতন্ত্র ইত্যাদি বাদ দিয়ে উম্মাহ চিন্তাকে মনে প্রতিষ্ঠা করা।


নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
copyright 2020:
Theme Customized BY MD MARUF ZAKIR