1. abutalha6256@gmail.com : abdul kadir : abdul kadir
  2. abutalha625616@gmail.com : abu talha : abu talha
  3. asadkanaighat@gmail.com : Asad Ahmed : Asad Ahmed
  4. izharehaq24@gmail.com : mzakir :
সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ০৮:১৭ অপরাহ্ন

আলেমরাই জাতির প্রকৃত বন্ধু

মাহফুজুর রহমান হোসাইনী
  • প্রকাশটাইম: শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২১

বিপদে পড়লেই জানা যায় প্রকৃত বন্ধুর পরিচয়। যদিও এটা একটা প্রবাদ বাক্য, তবে বাস্তবঅর্থে বাক্যটি কতই না সত্য! সুসময়ে বন্ধুর অভাব থাকে না মানুষের। কিন্তু যখন বিপদ ঘাড়ে চেপে বসে তখন মনে হয় পৃথিবীতে আমার চেয়ে অসহায় আর কেউ নেই। এমনকি নিজের আপনজন, সন্তান সন্ততি, আত্মীয়-স্বজনেরাও পাশ কেটে চলে যায়, দৌড়ে পালায়। এই ব্যাপারগুলো আমাদের সামনে এখন দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট। কিছুদিন আগেও এরকম অহরহ ঘটনা আমরা অবলোকন করেছি। স্বামীর করোনা পজিটিভ, শুনে স্ত্রী পালিয়েছে বাপের বাড়িতে। সন্তান করোনাভাইরাসে আক্রান্ত, আর মা-বাবা নিজের চিন্তায় পেরেশান। বাবা করোনায় যায় যায় অবস্থা আর সন্তানের মনোভাষ্য নিজে বাঁচলে বাপের নাম। এমনকি বাবা করোনায় মারা গেলে কাফন-দাফন তো দূরের কথা; শেষ দেখা দেখতে বাবার লাশের কাছে পর্যন্তও যায়নি সন্তান। কাফন-দাফনে এগিয়ে আসেনি আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশীরাও। সেই করুণ মুহূর্তে জাতির মুহাব্বতে, আন্তরিকতার টানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে এসেছে আলেম সমাজ। জাতির প্রতি আলেম সমাজের এই নজিরবিহীন ভালোবাসা অস্বীকার করার কোনোই সুযোগ নেই।

সামাজিক, অর্থনৈতিক, শারীরিক, প্রাকৃতিক, জাতির যেকোনো দুর্যোগে নিঃস্বার্থভাবে এগিয়ে আসেন একমাত্র আলেমরাই। সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করেন সমস্যা সমাধানের। মানবজীবনের মূল উদ্দেশ্য হাসিলের লক্ষ্যে আখিরাতের চিরস্থায়ী সুখের ঠিকানা বানিয়ে নেওয়ার জন্য একমাত্র আলেমরাই জাতির রাহবারি করেন। সঠিক পথ দেখান। কাল কেয়ামতে সবচেয়ে বেশি অসহায় থাকবে মানবজাতি। কেউ কারো কোনো উপকারে আসবে না। সেই কঠিন অবস্থা থেকে জাতিকে বাঁচানোর জন্য আলেমদের পুরো জীবনটাই নিবেদিত। জাতিকে হাশরের ময়দানের ভয়াবহ শাস্তি থেকে নিঃস্বার্থভাবে বাঁচানোর চেষ্টা করতেই আলেমদের আবির্ভাব। আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আর মুমিনদের সবার জন্য একসঙ্গে বেরিয়ে পড়া যেহেতু সম্ভব নয়, তাই প্রত্যেক বড় দল থেকে একটি উপদল কেন বের হয় না, তারা ইলমে দীন শিক্ষা করবে এবং ফিরে এসে তারা নিজ জাতিকে সতর্ক করবে, যাতে তারা (সকল প্রকার অন্যায়-পাপ কাজ থেকে) বিরত থাকে।’ (সুরা তওবা : ১২২)

খারপ কাজ, গোনাহের কাজ, ধ্বংসের কবল থেকে জাতিকে রক্ষা করে জান্নাতের দিয়ে নিয়ে যাওয়াই হল আলেমদের উদ্দেশ্য। আলেমরা জাতির পাহারাদার। অতন্ত্রপহরী। জাতির অমূল্য সম্পদ ঈমান আমল কেউ ধ্বংস করতে চাইলে সিংহের গর্জনে সামনে দাঁড়ায় আলেমরা। জাতির ঈমান আকীদা রক্ষায় নিজের জান দিতেও পরোয়া করেন না আলেমরা। তাঁরা জীবন বাজি রেখে বাতিলের মোকাবিলায় ঝাঁপিয়ে পড়েন। সকল প্রকার গোমরাহ বিদাত থেকে জাতিকে মুক্ত রাখতে সদা সোচ্চার তাঁরা।

আলেমরা সব সময় জাতির কল্যাণে নিয়োজিত। দুনিয়ার লোভ লালসা, আরাম আয়েস পরিত্যাগ করে জাতির মুক্তির পথ নিয়েই ব্যস্ত থাকেন তাঁরা। তাঁদের জীবনের মূখ্য উদ্দেশ্য হলো জাতিকে সঠিক পথের সন্ধান দেওয়া। কোরআন-সুন্নাহর জ্ঞান মানুষের মাঝে বিলিয়ে দেওয়ার চেষ্টায় নিয়োজিত তাঁরা। আল্লাহর সাথে মানুষের সম্পর্ক তৈরি করেন তাঁরা। মানুষদের আল্লাহর বিধি-বিধান শিক্ষা দেন। হালাল-হারাম শিক্ষা দেন। তাদের সংস্পর্শে এসে অন্ধকার জগতের মানুষ আলোকিত জীবনের সন্ধান পায়। ইমাম হাসান বসরি (রহ.) বলেন, ‘আলেমরা না থাকলে মানুষ গবাদিপশুর তুল্য হয়ে যেত।’ আলেম তারাই যারা শরিয়ত বহন করেন। কথা বলেন কোরআন-সুন্নাহর আলোকে। রক্ষা করেন ইসলামের পবিত্রতা। দূরে রাখেন তার থেকে সব কদর্যতা। লক্ষ্য রাখেন জনগণের দিনের প্রতি। শিক্ষা দেন জাহেলদের। স্মরণ করিয়ে দেন আল্লাহভোলা বান্দাদের তাঁর কথা। ফেতনা চিহ্নিত করেন। দূরীভূত করেন অন্ধকার। ফাঁস করেন ভ্রান্তলোকদের গোমর। তারা যদি আল্লাহর বিধিবিধান রক্ষা না করতেন, ইসলাম মিটে যেত। শরিয়ত বিলুপ্ত হতো। এক বর্ণনায় এসেছে, ‘জমিনে আলেমদের অবস্থান আসমানের নক্ষত্রতুল্য। যখন মানুষ তা দেখে, পথ চলে। যখন তা অদৃশ্য হয়ে যায়, অস্থির হয়ে পড়ে।’ (বায়হাকি : ১/৩৫৪)।

পৃথিবীতে আল্লাহ তায়ালা জাতির কল্যাণের জন্য যুগে যুগে নবী রাসূল প্রেরণ করেছেন। সকলেই নিজ জাতির মুক্তির চেষ্টায় সারাটা জীবন পারি দিয়েছেন। এই ধারাবাহিকায় সর্বশেষ নবী হলেন, হজরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনিও সারা জীবন তাঁর উম্মতের নাজাতের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন। তাঁর পরে কেয়ামত পর্যন্ত জাতিকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচতে আলেমদেরকে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন তিনি। আল্লাহপ্রদত্ত যেই ইলমের মাধ্যমে জাতির আলোর পথের দিশা মিলবে সেই নবুয়তি ইলমের ওয়ারিশ বানানো হয়েছে আলেমদেরকে। হজরত আবু দারদা (রা.) বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, ‘আবেদের ওপর আলেমের ফজিলত এরূপ, যেরূপ পূর্ণিমার রাতে চাঁদের ফজিলত সব তারকারাজির ওপর। আর আলেমরা হলেন নবীদের ওয়ারিশ। আর নবীরা দিনার-দিরহাম মিরাস হিসেবে রেখে যান না; বরং তাঁরা রেখে যান ইলম। কাজেই যে ব্যক্তি ইলম হাসিল করল, সে প্রচুর সম্পদের মালিক হলো।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং-৩৬৪২)।

নবুয়তি দায়িত্ব! অনেক বড় দায়িত্ব! জাতির রাহবার। জাতির প্রকৃত বন্ধু। জাতির কল্যাণে যারা নিবেদিত প্রাণ। সেই আলেম হওয়ার সুভাগ্য সবার কপালে জুটে না। আল্লাহতায়ালা সবাইকে আলেম হওয়ার তাওফিক দেন না। যাকে ইচ্ছা করেন এবং যার কল্যাণ চান তাকেই তিনি এই ইলমের দৌলত দান করেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘তিনি (আল্লাহ) যাকে ইচ্ছা আল-হিকমাহ (গভীর ইলম) দান করেন। আর যাকে আল-হিকমাহ দেওয়া হয়, তাকে মূলত দেওয়া হয় অঢেল কল্যাণ।’ (সুরা বাকারা, আয়াত-২৬৯)। হাদিস শরিফে হজরত মুয়াবিয়া (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেন, ‘আল্লাহ যার কল্যাণ করতে চান, তাকে দিনের ব্যাপারে ফকিহ (প্রসস্থ ও গভীর ইলমধারী বিজ্ঞ) বানিয়ে দেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নং- ৭১)

আলেমরাই জাতির প্রকৃত কল্যাণকামী বন্ধু। তাঁরা জাতির সেবায় নিজেদের জীবন সঁপে দিয়েছেন। এসবই তারা করেন আল্লাহর নির্দেশ পালনে, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে। তাঁরা সাধারণ কোনো মানুষ নয়। তাঁদের মর্যাদা অনেক উপরে। উত্তম আচরণ ও যথাযথ সম্মানের প্রাপ্য তাঁরা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘ওই ব্যক্তি আমার আদর্শের ওপর নাই, যে আমাদের বড়দের সম্মান করে না, ছোটদের স্নেহ করে না এবং আমাদের আলেমদের প্রাপ্য মর্যাদা প্রদান করে না।’ (মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং-২২১৪৩)। আলেমদের যোগসূত্র সরাসরি আল্লাহর সাথে। আল্লাহর ওলি তাঁরা। তাদের সাথে কোনো প্রকার দুশমনি বা শত্রুতা পোষণ করা যাবে না। এ ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা কঠিন হুশিয়ারি করেছেন। হাদিসে কুদসিতে আছে, আল্লাহতায়ালা বলেন: ‘যে ব্যক্তি আমার কোনো ওলির সঙ্গে দুশমনি করবে আমি তার সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করলাম।’ (বুখারি, হাদিস নং-৬৫০২)।

আলেমরা জাতির ফিকির করেন। তাই আল্লাহ তায়ালা তাঁদের মর্যাদা অনেক বৃদ্ধি করে দিয়েছেন। আলেমরা এতোটাই মর্যাদাবান এবং গুরুত্বপূর্ণ যে, তাঁদের জন্য পৃথিবীর সকল মাখলুকাত তথা আসমান-জমিনের সবকিছুই দোয়া করতে থাকে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি ইলমের অন্বেষণে পথ ধরে অগ্রসর হয়, আল্লাহ তার জন্য জান্নাতের পথকে সহজ করে দেন। আর ইলম অন্বেষণকারী যা (কিছু কষ্ট-ক্লেশ ও শ্রম বরদাস্ত) করে, তাতে ফিরেশতাকুল খুশি হয়ে তার জন্য অবশ্যই তাদের পালকগুলোকে বিছিয়ে দেয়। নিশ্চই আলেমের জন্য আসমানসমূহে যারা আছে এবং জামিনে যারা আছে, এমনকী পানির তিমি মাছ পর্যন্ত তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে থাকে। আর আবেদের (বে-আলেমের) ওপরে আলেমের ফজিলত হলো, যেমন তারকারাজির ওপরে চাঁদের ফজিলত।’ (সুনানে তিরমিযি, হাদিস নং-২৬৮২)

আলেমরা কোরআন-সুন্নাহর ধারক-বাহক। সমাজে তাঁদের মর্যাদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে। তাঁদের সঙ্গে উপহাস করা, তাঁদেরকে গালি দেওয়া, তাঁদের শানে বেয়াদবি, তাঁদেরকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করা অনেক বড় অন্যায়। আমাদের সমাজে অনেকে বুঝে, না বুঝে, ইচ্ছায়, অনিচ্ছায় আলেমদের সমালোচনা করে থাকে। আবার অনেকেই দুনিয়াবি কোনো স্বার্থে আলেমদের বিরোধিতা বা গালিগালাজ করে থাকে। সাবধান! কোনো অবস্থাতেই এমনটি করা যাবে না। ভুলক্রমে যাদের দ্বারা এমনটি হয়ে গেছে, তাদের এখনই উচিত তওবা করা। নিজে আলেম হওয়ার সৌভাগ্য কপালে না জুটলে আলেমদের মুহাব্বত করো। আন্তরিক হও তাঁদের প্রতি। নতুবা ধ্বংস অনিবার্য। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, (সম্ভব হলে) তুমি আলেম হও কিংবা ইলম অর্জনকারী হও। অথবা (ইলম) শ্রবণকারী হও কিংবা (আলেম ও ইলম অন্বেষণকারীর প্রতি) মুহাব্বাতকারী হও। তবে পঞ্চম কেউ হয়ো না তাহলে তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে।’ (ত্বাহাবী শরিফ, হাদিস নং-৬১১৬)। আল্লামা আব্দুর রহমান ইবনে মুহাম্মদ কালয়ুবি (র.) বলেন, ‘যদি কেউ ইসলামী শরিয়ত বা শরিয়তের সুস্পষ্ট কোনো মাসয়ালা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে, তাহলে সে কুফুরি কাজ করল। যদি কেউ কোনো আলেমের সঙ্গে ব্যক্তিগত কোনো কারণ ছাড়া (আলেম হওয়ার কারণে) শত্রুতা বা বিদ্বেষী মনোভাব পোষণ করে, তাহলে তার কাফির হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া : ২/২৭০, ফাতাওয়ায়ে তাতারখানিয়া : ৫/৫০৮)

লেখক: সহসম্পাদক, দৈনিক বাংলাদেশের খবর

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
copyright 2020:
Theme Customized BY MD MARUF ZAKIR