1. abutalha6256@gmail.com : abdul kadir : abdul kadir
  2. abutalha625616@gmail.com : abu talha : abu talha
  3. asadkanaighat@gmail.com : Asad Ahmed : Asad Ahmed
  4. izharehaq24@gmail.com : mzakir :
শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ০৭:৫৬ পূর্বাহ্ন

রক্তদান হোক পরোপকারের উত্তম মাধ্যম

তোফায়েল আহমেদ রামীম
  • প্রকাশটাইম: শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২১

বিশ্ব মানবতার এক পরম সত্য ধর্মের নাম হলো ইসলাম। এই ধর্ম সর্বদা মানুষের সার্বিক মঙ্গল কামনা করে, মানব কল্যাণের প্রত্যেকটি বিষয় এখানে গুরুত্বের সাথে আলোকপাত করা হয়েছে, নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সঠিক পথের। যে কোন প্রয়োজনে ইসলামের বিধি-বিধান ও দৃষ্টিভঙ্গির উপর আস্হা রাখা এ ধর্মের অনুসারীদের উপর অত্যাবশ্যক। পার্থিব জীবন পরিচালনা করতে গিয়ে মানুষ যত ধরণের সমস্যার সম্মুখীন হয়, সকল সমস্যার সমাধান ইসলাম নিখুঁতভাবে দিয়েছেন, বাদ পড়েনি রক্তদানের বিষয়টিও। রক্তদান আধুনিক বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম এবং বর্তমান সময়ের চিকিৎসা বিজ্ঞানের অপরিহার্য একটি বিয়ষ। তাই ইসলাম রক্তদানের প্রতি মানুষকে ব্যাপক উৎসাহ প্রদান করেছে।


মুমূর্ষু রোগী যখন মৃত্যু সাথে পাঞ্জা লড়ছে, রক্তের প্রয়োজনে হাহাকার করছে, স্বজনরা রক্তের শূণ্যতা পূরণ করতে ছুটে চলছে এখানে-সেখানে। কিন্তু মিলছে না কোথাও রক্ত। হতাশায় ভেঙ্গে পড়ছে সবাই। আশাহত হয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে থাকিয়ে থাকে স্রষ্টারপাণে। ঠিক সেই কঠিন মুহুর্তে স্বেচ্ছায় রক্তদানে এগিয়ে আসে একঝাঁক তরুণ-তরুণী। তারা পার্থিব কোন স্বার্থ হাসিলের জন্য রক্তদান করেনি। পরকালে মুক্তি লাভই তাদের একমাত্র উদ্দেশ্য। ক্ষণস্থায়ী এই পৃথিবীতে অন্যের জীবন বাচাঁতে নিজের রক্ত দান করা যে কতো আনন্দের তা একমাত্র রক্তদাতারাই বুঝে। স্বেচ্ছায় রক্তদানকারী দুনিয়া- আখিরাত সর্বত্র সম্মানিত ও আনন্দিত।




রক্তদান একটি মানবিক দায়বদ্ধতা ও সামাজিক অঙ্গীকার। কাজেই আমাদের কারো একজনের রক্তের বিনিময়ে যদি কোন একজন মানুষ অসুস্থতা থেকে রক্ষা পেয়ে সুস্হ হয়ে ওঠে, তাহলে আমাদের স্বেচ্ছায় রক্তদান করা উচিত এবং অন্যকে রক্তদানে উৎসাহিত করা আমাদের দায়িত্ব।
স্বাস্থ্যবিজ্ঞানীদের মতে, একজন সুস্হ মানুষ প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর রক্তদান করতে পারে, এতে তার শারীরিক কোন সমস্যা হয় না। রক্তদানের মাধ্যমে পরোপকারও করা হয়। তাতে প্রচুর পরিমাণ সওয়াবও পাওয়া যায়। রক্তদাতা ও গ্রহীতার মধ্যে গড়ে ওঠে রক্তের বাধঁন, সৃষ্টি হয় নতুন বন্ধুত্বের। তাছাড়া রক্তদাতাও শারীরিক, মানসিক, আত্নিক ও ইসলামী মূল্যবোধের দিক দিয়ে সুস্হ থাকেন।




মানবতার কল্যাণে কাজ করার ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন, অর্থাৎ – একজন মানুষের জীবন রক্ষা করা সমগ্র মানবজাতির জীবন রক্ষা করার মতো মহান কাজ। (সূরা:-মায়েদা – ৩২)
হাদিস শরীফে রাসূল (সাঃ) পরোপকারের কথা বণর্না করতে গিয়ে বলেন, অর্থাৎ – তোমাদের কেউ তার অপর ভাইয়ের উপকার করতে সক্ষম হলে সে যেন তা করে। (মুসলিম শরীফ)
উপরোক্ত আয়াত ও হাদিসের আলোকে প্রতীয়মাণ হয় যে, স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে অন্যের জীবন রক্ষা পায় এবং এতে মানবতার কাজে অংশীদারিত্ব লাভ করা যায়। হতে পারে স্বেচ্ছায় রক্তদান আমার-আপনার জান্নাতে যাওয়ার উসিলা। আর এটা যদি ব্যাপকভাবে প্রচার -প্রসার করা যায়, তাহলে খুব সহজেই স্বেচ্ছায় রক্তদানের প্রবণতা প্রবলভাবে তৈরী হবে সবার মাঝে। যে প্রবণতাটা আজ আমাদের ঘুনেধরা সমাজে খুব বেশীই প্রয়োজন। পৃথিবীতে অনেক মহৎ কাজ রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম মহৎ কাজ হলো স্বেচ্ছায় রক্তদান। কারণ রক্ত কোন ফ্যাক্টরি কিংবা গোডাউনে উৎপন্ন হয় না, কেবল একজন মানুষের প্রয়োজনে আরেকজন মানুষ দিতে পারে। তাই এই মহৎ কাজটি মানব সেবার অন্যতম উদাহরণও বটে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল যে, অনেক সময় আমাদের কেউ যদি অসুস্থ হয়ে পড়েন তখন রক্তের প্রয়োজন হলে আমরা অন্যের শরণাপন্ন হই। যে রক্তদান করে পরবর্তীতে আমরা তার খোঁজ খবর রাখি না। এমন ভুল কখনো যেন না ঘটে সেদিকে বিবেচনায় রাখতে হবে আমাদের।




যেহেতু ইসলাম বিপন্ন মানবতার পাশে দাঁড়াতে বলে, মুমূর্ষু মানুষের জীবন রক্ষা করার কথা বলে আর জনসেবামূলক এই কাজে ধর্মীয় কোন বিধি নিষেধও নেই, সেহেতু জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সবাইকে একযোগে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। মনে রাখবেন, একে অন্যের উপকার, সহানুভূতি ছাড়া মানবজীবন মূল্যহীন। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন, “মানবতার সেবাই হচ্ছে মুক্তির সোপান” তাই আসুন স্বেচ্ছায় রক্তদানে আমরা আরোও সোচ্চার হই, আল্লাহ তায়ালা আমাদের সকলকে স্বেচ্ছায় রক্তদান করার মতো উদার হৃদয় দান করুক, আমিন।

লেখক:শিক্ষার্থী,ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ঢাকা কলেজ।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
copyright 2020:
Theme Customized BY MD MARUF ZAKIR