1. abutalha6256@gmail.com : abdul kadir : abdul kadir
  2. abutalha625616@gmail.com : abu talha : abu talha
  3. asadkanaighat@gmail.com : Asad Ahmed : Asad Ahmed
  4. izharehaq24@gmail.com : mzakir :
সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ০৮:৩২ অপরাহ্ন

রমযানে করণীয় ও বর্জনীয়

মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম
  • প্রকাশটাইম: শনিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২১

বছরঘুরে ফের আমাদের সামনে হাজির হয়েছে রমযান। রহমত,মাগফিরাত আর নাজাতে ভরপুর মহিমান্বিত এ মাসে আমাদের অনেক করণীয় আছে,আছে বর্জনীয়ও। বক্ষমাণ প্রবন্ধে সে বিষয়গুলো নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।




রমযানে সেহরির সময় মাইক বাজানো :

এখন দেখা যায় সেহরির সময় মসজিদে মসজিদে মাইক বাজিয়ে দেয়। বিভিন্ন গজল, কুরআন তিলাওয়াত, ওয়াজ বাজিয়ে দেওয়া হয়। যেগুলো বাহ্যিক দৃষ্টিতে দেখলে পুণ্যের কাজ মনে হয়। কিন্তু, এর দ্বারা অন্যের আমলের ব্যাঘাত ঘটে। হতে পারে এমতাবস্থায় কেউ তাহাজ্জুদ পড়ছে। কিন্তু, মাইকের উচ্চ আওয়াজের কারণে তাঁর নামাযের মধ্যে বারংবার ভুল হচ্ছে। কারণ নামাযের মধ্যে খুশু-খুজু গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যবহ বিষয়। দুনিয়ার সবকিছু ভুলে একমাত্র রবের ধ্যানে মগ্ন থাকা। যদি এই কাজটি আমার কারণেই হয়ে থাকে, তাহলে তা থেকে বিরত থাকবো। আর যদি অন্যের কারণে হয়, তাকে সুন্দরভাবে বুঝাবো; কোন হট্টগোল করবো না। যদি হট্টগোল করি তো ঝগড়া বিবাদ সৃষ্টি হবে।




সেহরি বন্ধ করতে বলা :

অধুনা দেখা যায় পাশাপাশি মসজিদের একটিতে সেহরি খাওয়া বন্ধ করতে বলে। অপরটিতে আযান দেয়। যার কারণে মহল্লাবাসী ও গ্রামবাসী দ্বিধায় পড়ে যায়। আর সারাদিন রোযা রেখে যে তৃপ্তি, সেটি আর অনুভব হয় না। কারণ, সারাদিন তাঁর মনে একটি সন্দেহ ঘুরপাক খায় যে, আমার সেহরি খাওয়া সময়ের মধ্যে হয়েছে কী না? যদি সেহরির সময়ের মধ্যে আমার খাওয়াটা না হয়, তাহলে আমার সারাদিন উপোস থাকাটা হবে, রোযার সাওয়াব মিলবে না। আর এমন সন্দেহ নিয়ে কেউ রোযা রাখে, তাহলে রোযার তৃপ্তিটা মিলে না।
পাশাপাশি মসজিদের একটির মধ্যে যে সময়টাতে সেহরি খাওয়া বন্ধ করতে বলে, সেই সময়টা যদি হয় সেহরির শেষ সময়, তাহলে যারা সেহরি খাওয়া বন্ধ করলো তাদের রোযা হবে। আর যারা অপরটির জন্য অপেক্ষা করে আর বলে, এখনো এই মসজিদে খাওয়া বন্ধ করতে বলেনি, তুমি খেয়ে নাও। অথচ সেই সময়টি সুবহে সাদিকের সময়, তাহলে রোযা ভেঙে যাবে। সুবহে সাদিকের সময় না হলে রোযা ভাঙবে না। এমতাবস্থায় আমাদের করণীয় হলো, সঠিক সময়ের রিচার্স করা। যদি কোন গ্রামবাসী বা মহল্লাবাসী সঠিক সময় সম্পর্কে অবগত, তাঁরা যেন সেই সময়টাতেই সেহরি খাওয়া বন্ধ করে দেয়। মসজিদে কখন বলে তাঁর উপেক্ষা না করা।




সুবহে সাদিকের পর দাত পরিষ্কার করা :

বর্তমান দেখা যায়, কিছু মুসলিম ভাই সকালে ঘুম থেকে উঠে দাঁত পরিষ্কার করে। এতে রোযা হালকা হয়ে যায়। কারণ, এতে পানি ভিতরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই হাদিসে রোযা রেখে ক্বলক্বলা করতে নিষেধ করছেন। আমরা যারা টুথপেষ্ট দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করি, এই টুথপেষ্ট ভিতরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা অতি বেশি। আর যারা মাজন দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করে, তাঁদের দাঁতের ফাঁকে কিছু মাজন থেকে যায়। এগুলো যেকোন সময় ভিতরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।



এমতাবস্থায় আমাদের করণীয় হলো— সেহরি খাওয়ার পর দাঁত ভালোভাবে পরিষ্কার করে নেওয়া। যাতে দাঁতের ফাঁকে অবশিষ্ট কোন দানা না থাকে। যদি সেহরি খাওয়ার পর দাঁত ভালোভাবে পরিষ্কার না করি, তাহলে দাঁতের ফাঁকে কিছু দানা অবশিষ্ট থেকে যায়। যেগুলো আমরা ঘুমানোর সময় ভিতরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

কুরআন খতম দেওয়া :

এই মাস হলো বরকতময়, তিলাওয়াতের মাস। এই মাসে মানুষ বেশি বেশি তিলাওয়াত করে এবং সাওয়াবও বেশি। আর যারা কুরআন পড়তে পারেনা তাঁরা দাওয়াত পড়ায় বরকতের জন্য। এই দাওয়াত পড়ার ক্ষেত্রে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে যে— এই খতম ইছালে সাওয়াবের জন্য কি না। যদি ইছালে সাওয়াবের জন্য হয় তো টাকা নেওয়া জায়েয হবে না। প্রত্যেক সন্তানই চায় তাঁদের মা-বাবা কবরে শান্তিতে থাকুক, সূখে থাকুক। কবরের আযাব থেকে মুক্ত থাকুক। প্রত্যেক স্ত্রীও চায় তাঁর স্বামী কবরে শান্তিতে থাকুক। কবরে সাওয়াব পাঠানোর জন্য হাফেজ কিংবা আলেমদের দিয়ে কুরআন খতম দেন। এমতাবস্থায় হাফেজ কিংবা আলেমদের জন্য জরুরি যে, এমন ( ইছালী সাওয়াব) খতমের টাকা না নেওয়া। অন্যথায় বড় গুনাহে পতিত হবে। কবরে গিয়ে কুরআন খতম করা তাঁর ব্যাক্তিগত ব্যাপার। কেউ যদি চায়, নিজের মা-বাবার, দাদা-দাদির কবরের পাশে কুরআন পড়তে, তাহলে কোন অসুবিধে নেই। তবে অন্য কাউকে টাকা দিয়ে কুরআন খতম করালে তা নাজায়েজ। মোদ্দাকথা ইছালী সাওয়াবের জন্য কুরআন খতম দিলে টাকা নেওয়া জায়েয নেই।




রোযা রেখে ঝগড়া করা :

একটি প্রবাদ আছে— দুই কলসি এক জায়গায় হলে অবশ্যই বাজনা বাজবে। অর্থাৎ দুটি খালি কলসি এক জায়গায় রাখলে একটি আরেকটির সাথে ধাক্কা খাবেই। তদ্রূপ আমরা একগ্রামে, এক মহল্লায় কতেক লোক বাস করি। আমাদের মাঝে কথা কাটাকাটি হবেই। অনেক ভূল ত্রুটিও হবে। তবে মানুষ তো এক মতের না। মতের অমিল হতেই পারে। যার কারণে ঝগড়া, বিবাদ সৃষ্টি হয়। এখন দেখি সেই ঝগড়া অন্য মাসের তুলনায় আরো দ্বিগুণ, তীব্র হয়। মহল্লাবাসী, গ্রামবাসী ছুটে এসে ভীড় জমায় তাঁদের ঝগড়া, মারামারি দেখার জন্য। কিন্তু, রাসূল সা. বিশেষ করে রমাদান মাসে ঝগড়া, ফাসাদ থেকে নিজেকে বিরত রাখার জন্য বলেছেন।




আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত— রাসূলুল্লাহ সা. এরশাদ ফরমান,
‘যদি কেউ তাকে গালি-গালাজ করে অথবা তার সাথে লড়াই-ঝগড়া করে, তাহলে সে যেন বলে, ‘আমি রোযা রেখেছি।’ সহিহ বুখারি ১৯০৪
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে বোঝার তাওফিক দিন।আমীন!

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
copyright 2020:
Theme Customized BY MD MARUF ZAKIR