1. abutalha6256@gmail.com : abdul kadir : abdul kadir
  2. abutalha625616@gmail.com : abu talha : abu talha
  3. asadkanaighat@gmail.com : Asad Ahmed : Asad Ahmed
  4. izharehaq24@gmail.com : mzakir :
বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১, ০৮:৫৯ অপরাহ্ন

নিশাচর

মনজুর সা'দ
  • প্রকাশটাইম: রবিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২১

জান্নাতুল ফেরদৌস,বয়স মাত্র ৯ মাস তার । কি সুন্দর দেখতে! পরিচয়ে সে একজন পথ শিশু ।
মায়ের কোলে বসে বসে পথের মানুষদের দেখছে। মাঝেমধ্যে হাত নেড়ে নেড়ে কি যেন বলছে। অস্পষ্ট ভাষা তার। বাঙলা শেখার ব্যর্থ চেষ্টা করছে।




আদনানের খুব মায়া লেগেছে শিশুটিকে। সে তার কাছে গেল। শিশুটির মাকে জিজ্ঞেস করল,’আচ্ছা ওর বাবা কোথায়?’

হেসে হেসে উত্তর দিলেন,

— মইরে গেছে। গতমাসের ২৫ তারিখ।

মনে হচ্ছে তার স্বামী মরে যাওয়াতে তিনি
খুশি হয়েছেন। বন্দী খাঁচা থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
—এত ছোটো একটা শিশু নিয়ে এভাবে পথে বসেছেন কেন?
— কী আর কমু কন, জামাইডা মইরে যাওয়ার পর থেইক্কা রাস্তায় বইছি। আগে দিনকাল বালাই কাটছিল। হেয় মইরা যাওয়াতে বালাই অইছে। বিয়ের প্রত্তম প্রত্তম খুব ভালোবাসতো। পেটে বাচ্চা আওয়ার পর হেয় আমারে খালি মারধর করতো।
আমগো বস্তির এক ছেমরি লগে পিরিত কইরা বাইগ্গে গেছে। এর জন্যই কইছি, হেয় মইরে গেছে। হিহি।


কি অবলীলায় মেয়েটা তার জীবনের সংক্ষিপ্ত এক কালো অধ্যায় বর্ণনা করল। আদনানের মন ভীষণ খারাপ হলো। এতো সুন্দর একটা বাচ্চা রেখে কি কেউ পালিয়ে যায়! দুনিয়াতে এতো পাষাণ মানুষ থাকতে পারে!

এই মেয়েটার বয়স কতো হবে, বাইশ/তেইশ। বস্তিতে থেকেও মেয়েটার কতো স্বপ্ন ছিল স্বামীকে নিয়ে। কিন্তু জীবন কাকে কোথায় এনে দাঁড় করায়!




বেশ আগ্রহ নিয়ে আদনান অনেকক্ষণ কথা বলল। আদনানের বড্ড জানতে ইচ্ছে করে মানুষের জীবন। জীবনের গল্প। গল্পগুলো দুঃখের হলেও সুখের। কোনো স্ত্রী-ই চাইবে না তার স্বামী অন্য কারো সাথে অবৈধ সম্পর্ক রাখুক। কক্ষনো না।




আশপাশের মানুষগুলো বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে আছে। কেউ হয়তো এঁদের সাথে দু’একটা কথা বলে না। কাছে আসে না। তার মনে হলো এও হতে পারে!
সে ঘড়ি কিনতে যাচ্ছিল। গতকালও গিয়েছিল। দাম অনেক চেয়েছিল। পকেটে অতো টাকা ছিল না তাই কিনতে পারে নি সে। আজ বেশ কিছু টাকা নিয়ে এসেছে। ঘড়ি কিনবে বলে কিন্তু তার ইচ্ছে করছে না।
শুধু দূর থেকে পিচ্চিটাকে দেখতে ইচ্ছে করছে। ইশ,কি সুন্দর খেলছে। একা একা। তাদের সামনে দিয়ে মানুষ হাতির মতো হেঁটে যাচ্ছে। সবাই ব্যস্ত। ব্যস্ত শহর। যে যার মতো চলছে। কাউকে দেখার ফুরসতটুকুও যেন তাদের নেই।


আদনান ঘড়ি না কিনে শিশুটির কাছে
ফিরে আসল। শিশুটি মাড়ি বের করে হাসছে। এখনো তার দাঁত ওঠে নি। কিছুদিন পর উঠবে হয়তো।
আজ আদনানের পকেট গরম। দিলটাও তার নরম।পুরো টাকা শিশুটার হাতে দিল। ওর কচি নাক টিপে একটুখানি আদরও করল।




ওর মা কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়ে গেছে। এতো টাকা এক সাথে কেউ হয়তো দেয় নি। আদনান ল্যাম্পপোস্টের আলো গায়ে মেখে হাঁটছে। শিশু ও তার মা আদনানের চলে যাওয়া দেখছে। হাতে ঘড়ি নেই। ক’টা বাজে কে জানে! ক্যাম্পাসের গেইট হয়তো বন্ধ হয়ে গেছে। সে হাঁটছে আর মনে মনে বলছে,’আজ আরবি মাসের ষোল তারিখ। আকাশে পূর্ণ চাঁদ। রাতটা আজ হেঁটে হেঁটে কাটাবো। যখন ক্লান্ত হব, তখন পত্রিকা বিছিয়ে চাঁদের দিকে তাকিয়ে রাস্তার এক পাশে ঘুমিয়ে পড়ব!

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
copyright 2020:
Theme Customized BY MD MARUF ZAKIR