1. abutalha6256@gmail.com : abdul kadir : abdul kadir
  2. abutalha625616@gmail.com : abu talha : abu talha
  3. asadkanaighat@gmail.com : Asad Ahmed : Asad Ahmed
  4. izharehaq24@gmail.com : mzakir :
বুধবার, ১২ মে ২০২১, ০৫:৩৬ অপরাহ্ন

রহস্যময় হলুদ খাম

মনজুর সা'দ
  • প্রকাশটাইম: রবিবার, ২ মে, ২০২১

সন্ধ্যা। চারদিক থেকে শীত জেঁকে বসেছে।গায়ে চাদর জড়িয়ে ধীরে ধীরে হাটঁছি।আমার এক হাতে হলুদ খাম।খুব যত্ন করে ধরে খালাম্মার বাসায় যাচ্ছি। রাস্তার বাঁকে বাঁকে সোডিয়াম লাইটের বিশাল খাম্বা দাঁড়িয়ে আছে।কোনো খাম্বায় লাইটের আলো নেই। খাম্বাগুলো দাঁড়িয়ে শুধু দায়িত্ব পালন করছে পথচারীদের। রাস্তার আশেপাশে থেকে ঝিঁঝিপোকার ডাক আমার কর্ণকুহরে ভেসে আসছে। কানটা ভীষণ জ্বালা পোড়া করছে। কি অদ্ভুত শব্দ। আর ভালো লাগেছে না।দ্রুত হেঁটে বাসার সামনে এসে দাঁড়ালাম। খালাম্মারা থাকেন দোতলায়। এখন কষ্ট করে সিঁড়ি ভেঙে দোতলায় উঠতে হবে। কি আর করার। উঠতে তো হবেই। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় আম্মু বেশ কড়া করে বলে দিয়েছেন,

ফারাবী, হলুদ খামটি তোর খালাম্মাকে দিবি।
দিয়ে একমিনিটও দেরি করবি না।বাসায় এসে পড়বি।আর শুন,তুই এখন ছোটো না।বেশ বড় হয়েছিস।′আদিবার ′সাথে দুষ্টামি ফাজলামি তো দূরের কথা কোনো কথাও বলবি না। সোজা বাসায় চলে আসবি।মনে থাকবে?’

আমি আম্মুকে ভীষণ ভয় করি। সেই ছোটো থেকেই। বাবার সাথে একদম ফ্রী। সব কথা বাবাকে বলি,আম্মুর সাথে এড়িয়ে চলি।
খাম হাতে নিয়ে মাথা কাত করে বললাম,
‘তোমার ভাগ্নির সাথে কথা বলার আমার শখ নেই। ঐ পুচকির লগে কে কথা কইব!’

দরজায় নক করলাম। কোনো সাড়াশব্দ নেই। বেশ কয়েকবার কলিংবেল টিপলাম।

কাজের মেয়ে দরজা খুলে বললো,
কারে চান?
খালাম্মাকে।বাসায় খালাম্মা আছেন?
হেয় তো বাইরে গেছে।কখন আইবো কইতে পারতাম না।’




কাজের মেয়েটাকে নতুন মনে হচ্ছে।কথায় কথায় চটং চটং করে।মেহমানকে আপ্যায়ন করা এখনো শিখেনি। তা ছাড়া আমারও এখন এ বাসায় বেশি একটা আসা হয় না।তাহলে চিনবেই কীভাবে?
শেষ কবে যেন আসছিলাম।নাহ, মনে পড়ছে না।
আগের কাজের মেয়েটা খুব চঞ্চল ছিল।মেয়েটার বাড়ি কোথায় যেন ছিলো? ময়মনসিংহ অথবা চাঁদপুর হবে হয়তো।এখন ঠিক মনে করতে পারছি না।
আমাকে আসতে দেখেই বলতো,
“ভাইজান আইছেননি ক্যান? এতো দিন পর মনে অইলো আমগোরে?আফনারে কবে থেইকে দেহি না জানেন।আহেন।ঘরে আহেন।আফনার কতা খালাম্মা হারাদিনি কই।আফনে সোফায় গিয়ে হেলান দেন।আমি এক দৌড়ে চা বানায়ে আনতাছি।”




___ওমন করে কী দেহেন?”
আমার ভাবনায় ছেদ পড়লো।
ও হ্যাঁ।খালাম্মা কখন আসবে?
কইলাম না জানি না।

সোফায় বসে হলুদ খামটা দেখছি।
খাম খোলা নিষেধ।উল্টে -পাল্টে দেখছি।

এমন কী আছে খামে,দেখা যাবে না,খুলা যাবে না,পড়া যাবে না।ধরা যাবে না।ছোঁয়া যাবে না! হাহা। কি কাণ্ড মা’র।এখনো ছেলেমানুষি করে।




এই শীতের দিনেও আমার মাথায় বৈদ্যুতিক পাখা ঘুরছে।পর্দা হালকা করে দোল খাচ্ছে। আদিবার রুমে উঁকি দিলাম।যদিও এটা ঠিক না।তবুও ছোটো বেলার খেলার সাথীকে কি কেউ ভুলতে পারে?দু’য়েকটা কথা না বলে চলে যেতে পারে?

আদিবা গুটি-শুটি দিয়ে সিজদা দিচ্ছে।অনেক সময় ধরে। উঠার কোনো নামগন্ধ নেই।বেশ অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে ভাবলাম,হঠাৎ এতো পরিবর্তন।কই আগে তো কখনো দেখি নি।যাক,ভালোই হলো।মেয়েটা অন্তত খালাম্মার মতো হয় নি।অনেকটা পরিবর্তন হয়ে গেছে।ওর বাবাতো ভুলেও পশ্চিম দিকে উষ্টা খেয়েও পড়ে না।

আম্মু বারবার কি জন্য নিষেধ করলেন এখন একদম পরিষ্কার।




এমন সময় কলিংবেল বেজে উঠল।পা টিপে টিপে ভেজানো দরজা খুলে দিলাম। খালাম্মা বললো,’কিরে ফারাবী ,তুই কখন এলি? এই তো খানিক আগে।

__ও আচ্ছা। বস্।

__না খালাম্মা বসব না।আম্মু রাগ করবে!

ও আচ্ছা। আমার বোনটা সেই আগের মতই আছে?তোর হাতে কি?

খুলে দেখি নি।তবে চিঠি হবে হয়তো।
ও হ্যাঁ!
“তোমার জন্য আম্মু পাঠিয়েছে। তোমাদের দু`বোনের সেই রহস্যময় হলুদ খাম।”

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
copyright 2020:
Theme Customized BY MD MARUF ZAKIR