1. abutalha6256@gmail.com : abdul kadir : abdul kadir
  2. abutalha625616@gmail.com : abu talha : abu talha
  3. asadkanaighat@gmail.com : Asad Ahmed : Asad Ahmed
  4. izharehaq24@gmail.com : mzakir :
বুধবার, ১২ মে ২০২১, ০৫:০৪ অপরাহ্ন

নবদম্পতি

মনজুর সা'দ
  • প্রকাশটাইম: সোমবার, ৩ মে, ২০২১

__এই উঠো না। বেলা ক`টা বাজে দেখেছো!
___উঁহু, একটু ঘুমুতে দাও। এমনিতেই রাতে বেশি একটা ঘুম হয় নাই।
__কচু! গতকাল রাতে তো নাক ডেকে ঘুমিয়ে ছিলে। কতো ডাকলাম। কিন্তু তুমি…!


আদনান ওপাশে ফিরে বললো, ‘নুহা ফজরের নামাজ পড়ে কিন্তু শুয়েছি। এখন একটু ঘুমুতে দাও প্লিজ!

হুম যাচ্ছি বলে নুহা রুম থেকে বের হয়ে আবার রুমে ঢুকলো কী মনে করে যেন।




__এই ঘুমিয়ে গেলে?
__উঁহু। এখনো ঘুমাই নি। ঘুমের জগতে পা টিপে টিপে হাটঁছি। একটুপর হয়তো ঘুমিয়ে পড়বো।

নুহা শাড়ির আঁচলে কামড় দিয়ে লজ্জিত ভঙ্গিতে বলল,’আজ কিন্তু আমি রান্না করতেছি।আম্মুকে বলেছি, রান্নাঘরে আজ আর আসা লাগবে না। আমি নিজেই রান্না করবো।’




আদনান ওপাশ থেকে এপাশে ফিরে অবাক হয়ে গেলো!

__এ কি! তুমি আজ শাড়ি পরেছ?
__হুমম। কেন ভুল কিছু করে ফেললাম মনে হয়।
___আরে নাহ্, তোমাকে শাড়ি পরে দেখতে ভালোই লাগে। সেদিন কি সুন্দর লাগছিল না তোমায়!
__থাক থাক আর বলতে হবে না।
আমি আবার অল্পতেই ফুলে আকাশে উড়তে পারি।

আদনান আর নুহার বিয়ে হয়েছে বেশ কিছু দিন হলো।কিন্তু দেখলে মনে হবে, কতো জনম জনম তাদের এই প্রীতির বন্ধন।

নুহা রান্নাঘরে ঢুকে রান্না করছে। নুহার শাশুড়ী একবার দেখে গেল।




___বউমা,পারবে তো!?
___জি মা। পারব। তা ছাড়া এ কয়েকদিনে আপনার কাছে থেকে অনেক কিছুই শিখে ফেলেছি।
___বউমা, আদনান এখনো উঠে নাই?
___এই তো একটু আগে ডেকে এসেছি। চোখে নাকি রাজ্যের ঘুম! একটুপর উঠে পড়বে হয়ত।
___আচ্ছা আমি গেলাম।
যেতে যেতে বললেন, সাবধানে কিন্তু!




আদনান বলল, চামচের স্টান্ডার্ট ঠিক না; আরো লম্বা চামচ হওয়া উচিত। তাহলে আর তোমার হাতে গরম তেলের ছিটা পড়ত না।
নুহা বললো,’রান্না করতে গেলে একটু-আধটু তেলের ছিটা খেতে হয়। আপনি এত কাছে থাকবেন না, আপনার গায়ে লাগবে।

____আমি দাঁড়িয়ে থাকব। তোমাকে একাকী রান্নাঘরে ফেলে আমি যাব না।
নুহা বললো, হাত ধরে থাকলে আমি নাড়ানাড়ি করব কীভাবে? আপনি তো ভাল পাগল!




___একটু সরে দাঁড়ান। একটা কবিতা বলি।
___ওরে বাব্বাহ্! তুমি কবিতাও বলতে পারো!?
কবির সাথে থেকে থেকে কবিনী হয়ে গেছি।
দু’জনেই একসঙ্গে হেসে উঠলো।’

___আচ্ছা বলো।

___প্রহর শেষের আলোয় রাঙা, সেদিন চৈত্র মাস। তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ!”

মঞ্চ নাটকে কি হয়? অতি আবেগঘন মুহূর্তে ভিলেনের প্রবেশ ঘটে। নাটকের ভাষায় ক্লাইমেক্স তৈরি হয়।

রান্নাঘরে আদনানের মা প্রবেশ করে বললেন,’আদনান তুই কখন উঠলি?




___এই তো খানিক আগেই।
___তুই -ও বৌমার সাথে রান্না করছিস?
___নাহ মা। একটু সাহায্য করছি আর কি।
___ওহ আচ্ছা। বেশি বেশি সাহায্য কর।
সংসার এতে সুখের হয়!’




ডাইনিং টেবিলে বসে খাচ্ছে সবাই। আজকে রান্না করেছে নুহা। নুহা কিন্তু এখনো খেতে বসেনি। ও দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আদনানের খাওয়া দেখছে। আর সবার প্লেটে খাবার বেড়ে দিচ্ছে। আদনানের বাবা কয়েকবার বলেছে, “চেয়ারে বসো মা। একটা তো ফাঁকাই আছে।আদনান বললে নুহা নিশ্চয় বসতো কিন্তু ও তো বলছেনা।

আদনান বাসার সবাইকে বুঝাই যে,বউয়ের কথা বেশি একটা শুনে না। কিন্তু আদনান তো পুরোই বউ পাগল।এটা ওর ছোট বোন আফরা ছাড়া আর কেউ জানেনা। নুহা আদনানের ঘাড়ে লুকিয়ে একটা চিমটি কেটে দিয়ে আস্তে আস্তে বললো,
“দেইখো,আজ রাতে তোমাকে উচিত শিক্ষা দিব।তখন বুঝবে কত ধানের কত চাল!”

উহহ—রে! এতো জো…… !এইটুকু বলতেই প্লেট থেকে মুখ তুলে তাকিয়ে দেখে আফরা ওর দিকেই তাকিয়ে আছে।ওদের খুনসুটি দেখে হেসে খুন।

আদনানের মা বললো,
__আদনান, কী হয়েছে?
__আম্মু পানি দাও। এতো ঝাল তরকারিতে কি কেউ দেয়? খেতেই পারছি না।
___কই ঝাল হয়েছে?
__আমরাও তো। খাচ্ছি। কেউ কিছু বলছে না তুই খালি অভিযোগ করছিস।

আফরা বললো,’ভাইয়া ঝাল তো বেশি হয় নাই।একটু চি…বলবো বলবো?’
__বইন না ভালা। তুই যা চাইবি তাই দিমু!
তবুও কইছ নে।
___হয়ছে হয়ছে। তুমি তো পায়েলটা এখনো দিলে না?
___আচ্ছা দিমুনি।লকডাউনটা শেষ হোক। দোকানপাট খুলুক। তারপর।
__মনে থাকে যেন!
___আরে তোর কথা মনে থাকবে না তো কার কথা মনে থাকবে শুনি।
___তুই দয়া করে খাবার-টেবিলে মুখ খুলবি না ক্যামন!?তাহলে যে আমার ইজ্জত প্লাস্টিক হয়ে যাবে।

বউমা,
তুমি আমার কাছে এসো। দেখি মুখটা হা করো। এই তো লক্ষী মেয়ে!আহ, না খেয়ে খেয়ে মুখটা এতটুকুন হয়ে গেছে।
আদনান পানি টগ টগ করে গলায় চালান করে দিয়ে ব্যঙ্গ করে বললো,’বউমা, মুখটা হা করো।না খেয়ে খেয়ে এতটুকুন হয়ে গেছে। আহ, কী আদর!

___দেখছোস আফরা? তোর আম্মু কিন্তু সব আদর তোর নুহা ভাবিকে দিয়ে দিলো।
____আম্মা রান্নাটা কেমন হয়েছে?নুহা বললো।
__হুম। ভালোই তো লাগছে কিন্তু….
নুহার শাশুড়ি মা বলতে গিয়েও থেমে গেলেন।প্রচুর পরিমাণ লবণ হয়েছে।

আদনান মায়ের মুখ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে বললো,’মা,নুহা কিন্তু বেশ রেঁধেছে।আহ! এতো সুস্বাদু তরকারি আগে কখনো খাই নি। মনে হচ্ছে জীবনে এই প্রথম..!

আফরা বললো,থাম, থাম ভাইয়া! তোর পামটা রাখ।সেদিন আম্মা নানুবাড়িতে গিয়েছিলেন।তোর জন্য কত কষ্ট করে ডিম ভেজে ছিলাম।দেখ, এখনো হাতে গরম তেলের ছিটে আছে। তখনো কিন্তু তুই ডিম মুখে পুরতে পুরতে বলেছিলি____’আফরা, আহা, কী দারুণ ডিম ভাজতে পারিস তুই।মনে হচ্ছে জীবনে এই প্রথম ডিম ভাজা খেলাম।

তোর পাম শুনে আমি মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম সেদিন।কিন্তু এখন দেখছি,’তুই সবাইকে একই পাম দিস।’
আফরার কথা শুনে সবাই ঘর কাঁপিয়ে হেসে উঠলো।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
copyright 2020:
Theme Customized BY MD MARUF ZAKIR