1. abutalha6256@gmail.com : abdul kadir : abdul kadir
  2. abutalha625616@gmail.com : abu talha : abu talha
  3. asadkanaighat@gmail.com : Asad Ahmed : Asad Ahmed
  4. izharehaq24@gmail.com : mzakir :
বুধবার, ১২ মে ২০২১, ০৫:০৮ অপরাহ্ন

বাপ দুলালী

মনজুর সা'দ
  • প্রকাশটাইম: মঙ্গলবার, ৪ মে, ২০২১

ঝুম বৃষ্টি।বাসের জানালা পথে তাকিয়ে আছে যাত্রীরা।কেউ কেউ হাত বাড়িয়ে বৃষ্টিকে ছুঁয়ে দেখছে।গভীর আনন্দে।




দূরপাল্লার বাস চলছে।শাঁ শাঁ শব্দ তোলে।
রাস্তার এক পাশ দিয়ে রিকশা চালিয়ে যাচ্ছে সাবের মিয়া।একমনে। কোনো দিকে তাকাচ্ছে না সে।শার্ট ভিজে একাকার।
তার কোনো তোয়াক্কা নেই।প্যাডেল মারছে দ্রুত।কিন্তু রিকশা তেমন একটা এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছে না।
বেলা ফুরাবার আগে বাড়ি যেতে হবে।





সাবের মিয়ার ছোটো মেয়ে মিম।ক্লাস থ্রিতে পড়ে।বাবার ভীষণ ভক্ত।বাবাকে ছাড়া কিচ্ছু বুঝে না।পৃথিবীর সব বাবারা তাদের মেয়েদেরকে একটু বেশি ভালোবাসে।আলাদা চোখে দেখে।সাবের মিয়া ছোটো বেলায় তার মাকে হারায়।মা হারানোর কি যে যন্ত্রণা সে এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে।

তার মা নেই তো কি হয়েছে! মেয়েটা তো আছে।মা যদি আজ বেঁচে থাকতো তাহলে সাবের মিয়ার জন্য অপেক্ষায় করতে।এই পিচ্চি মেয়েটা তার জন্য এখন অপেক্ষা করে। পথ পানে চেয়ে থাকে। কখন আসবে বাবা।ঠিক মতো দুপুরেও খাই না।সে দূরে কোথাও ভাড়া পেলে সময় করে আসতে পারে না।মনটা ভীষণ খারাপ লাগে। কী আর করার,ভাগ্যে যা লেখা থাকে তাইতো হবে। এটা সে বিশ্বাস করে মনেপ্রাণে।সাবের মিয়ার বউ জোর করে ভাত খাওয়াতে চাইলে মিম বলে,’আমি কিছছু মুখে দিতাম না।আব্বা আইলে খামু।হেয় আমারে খাওয়ায়ে দিলে খামু।’




রাতে মিম ঘুমিয়ে যাওয়ার পর সাবের মিয়ার বউ তাকে এসব গল্প শোনায়।আনন্দে আত্মহারা হয়ে যায় সে।খুশিতে চোখের পানি এসে পড়ে।তার মা হারানোর যন্ত্রণা ভুলে যায়।মাঝেমধ্যে ঘুমন্ত মিমের গালে চুমু এঁকে দিয়ে বলে,’আমার আম্মাটার কতো বুদ্ধি!





মিম দরজায় দাঁড়িয়ে বাবার আসার অপেক্ষার প্রহর গুণছে।একটুপর পর হাত বাড়িয়ে বৃষ্টি নিচ্ছে হাতের মুঠোয়।মিমের মা শেফালী বেগম রান্না ঘর থেকে চেচিয়ে বলে,’এ-ই মাইয়া, ঘরের ভিতরে যা।আবার ঠান্ডা লাগলে কেডা তোরে নিয়ে হাসপাতালে ঘুইরা বেড়াইবো।তর বাপ আইবো সন্ধ্যার টাইমে।এতো বাপ দুলালী হইলে দুনিয়া চলে না। ‘

ঘরের দরজা ভেজিয়ে দিয়ে যখন খাটে বই খুলে বসে ঠিক তখনই রিকশার টুংটাং ধ্বনি ভেসে আসে।তার কর্ণকুহরে। বইটা কোনোমতো বন্ধ করে দরজায় উঁকি দেয়। বাবাকে দেখে খুশিতে লাফালাফি করে বলতে থাকে,
‘তুমি এতো দেরি করলা ক্যান?
জানো না আমি তোমার লাইগ্যা খাঁড়ায়ে থাহি?
সাবের মিয়া গামছা মাথা থেকে খুলে মুখটা মুছে বলে,’এ-ই যে আম্মা কতা দিসছি আর দেরি অইব না।তয় তোমার লাইগ্যা একটা জিনিশ আনছি বাজার থেইক্যা।বুক পকেট থেকে ললি পপ বের করে বলে,’এই যে নাও।কিন্তু আম্মা বেশি খাওয়ান যাইতো না তাইলে অসুক করবো।দাঁতে পোক অইবো।দুই দিন বাদে বাদে একটা নিয়ে আইমু।’




সে ঘাড় কাত করে হাসতে থাকে।কি নিষ্পাপ হাসি।সারাদিনের কষ্ট-ক্লেশ ভুলে যায় ছোট্ট মেয়ের মুখখানা দেখে।বাইরের ঝুম বৃষ্টিরা ও তার হাসি দেখে হাসে!

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
copyright 2020:
Theme Customized BY MD MARUF ZAKIR