1. abutalha6256@gmail.com : abdul kadir : abdul kadir
  2. abutalha625616@gmail.com : abu talha : abu talha
  3. asadkanaighat@gmail.com : Asad Ahmed : Asad Ahmed
  4. izharehaq24@gmail.com : mzakir :
শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১, ০২:৩৯ পূর্বাহ্ন

ইতেকাফ : আল্লাহর নৈকট্য লাভের মাধ্যম

তোফায়েল আহমেদ রামীম
  • প্রকাশটাইম: বৃহস্পতিবার, ৬ মে, ২০২১

নিঃসন্দেহে মাহে রামাযান মানবজাতির জন্য আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে এক বিশেষ নিয়ামত। এই মাসে আল্লাহ তার বান্দাদের জন্য অফুরন্ত রহমত, বরকত ও কল্যাণ নাযিল করে থাকেন, এ মাস হচ্ছে বান্দার গুনাহ মাফের উপযুক্ত সময়। মাহে রামাযানকে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত এই তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে। এক এক করে রহমত, মাগফিরাত আমাদের কাছ থেকে চলে গেল, নাজাতও চলে যাওয়ার দ্বারপ্রান্তে। পবিত্র বরকতময় এই মাসের শেষ দশকে ইতেকাফের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য অর্জন করা সম্ভব,  ইতেকাফের প্রতি রাসূল (সা.) অনেক গুরুত্ব দিয়েছেন, রাসূল (সা.) প্রতি বছর রামাযানের শেষ দশকে ইতেকাফ করতেন।




ইতেকাফ শব্দটি আরবি,  এটি আরবি “আকফ” ধাতু থেকে উদগত। আকফ শব্দের  অর্থ হচ্ছে অবস্থান করা,  আবদ্ধ করা, স্থির থাকা ইত্যাদি।  ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায় ইতেকাফ হলো ইবাদতের উদ্দেশ্যে ইতেকাফের নিয়তে নিজেকে নির্দিষ্ট জায়গায় নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আবদ্ধ রাখা। যিনি ইতেকাফ করেন তাকে মু’তাকিফ বলে।




ইতেকাফ সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন, অর্থাৎ:- যখন আমি কাবা গৃহকে মানুষের জন্য সম্মিলন স্থল ও শান্তির আলয় করলাম, এবং (নির্দেশ দিলাম) তোমরা ইব্রাহিমের দাঁড়ানো জায়গাকে (মাকামে ইব্রাহিম) নামাযের জায়গা বানাও এবং আমি ইব্রাহিম ও ইসমাঈলকে আদেশ করলাম,   তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারী, ইতেকাফকারী, রুকুকারী ও সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রাখো। আর যতক্ষণ তোমরা ইতেকাফ অবস্থায় মসজিদে অবস্থান করো, ততক্ষণ পর্যন্ত স্ত্রীদের সঙ্গে মিশো না। এই হলো আল্লাহ কতৃক বেঁধে দেওয়া সীমানা। অতএব, এর কাছে যেও না, এমনিভাবে বণর্না করেন আল্লাহ তার আয়াতগুলো মানুষের জন্য, যাতে তারা তাকওয়া লাভ করতে পারে। (সূরা বাকারা:১২৫)।


ইতেকাফের গুরুত্ব বণর্নায় হাদিস শরীফে এসেছে,  হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত,  নবী করিম (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি রমজান মাসের শেষ দশকে ইতেকাফ করবে সে দুটি হজ্জ ও দুটি ওমরা আদায়ের সওয়াব পাবে। (তিরমিজি)।




হযরত আয়েশা (রা.) আরো বলেন, রাসূল (সা.) রামাযানের শেষ দশ দিন ইতেকাফ পালন করতেন, তাঁর ওফাতের আগ পর্যন্ত তিনি পালন করে গেছেন, তারপর তার স্ত্রীগণ এ নিয়ম চালু রাখেন। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত,  ইতেকাফকারী নিজেকে পাপ থেকে মুক্ত রাখেন এবং তার জন্য পূণ্যসমূহ জারি রাখা হয়। (মিশকাত)।




অন্য এক হাদিসে এসেছে,  যে ব্যক্তি একদিন ইতেকাফ করে আল্লাহ পাক তার এবং জাহান্নাম ও তার মধ্যে তিন খন্দক দূরত্বের ব্যবধান রাখবেন। এই দূরত্ব হবে আসমান ও জমিনের দূরত্বের চেয়েও অধিক।




অতএব, উল্লিখিত আয়াত ও হাদিসের আলোকে প্রতীয়মান হয় যে, ইতেকাফের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। ইতেকাফের মাধ্যমে মানুষ দুনিয়ার সবকিছু ছেড়ে আক্ষরিক অর্থেই বাহ্যত আল্লাহর সান্নিধ্যে চলে যায়।




ইতেকাফ একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ইবাদত।  ইতেকাফ অবস্হায় ইতেকাফকারী সার্বক্ষণিক ইবাদতের সওয়াব পেয়ে থাকেন। যেহেতু মসজিদ আল্লাহর ঘর, সেহেতু ইতেকাফকারী আল্লাহর প্রতিবেশী বা আল্লাহর ঘরের মেহমান হয়ে যান। ইতেকাফ অবস্থায় মানুষ আল্লাহর সম্মুখে এমনিভাবে হাজির হয়ে থাকেন যে, দুনিয়ার কোনকিছুর প্রতিই তার খেয়াল থাকে না, তিনি মৃতু ব্যক্তির মতোই নিজেকে আল্লাহর মর্জির উপর সঁপে দেন। সর্বোপরি ইতেকাফের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য অর্জন,  লাইলাতুল কদরের সুমহান মর্যাদা অর্জন ও আল্লাহ তায়ালার  প্রিয় বান্দা হওয়ার সুযোগ নিহিত রয়েছে। আল্লাহ আমাদের সকলকে সঠিক আমল করার দাওফিক দান করুক।

লেখক:  শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ, ঢাকা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
copyright 2020:
Theme Customized BY MD MARUF ZAKIR