1. abutalha6256@gmail.com : abdul kadir : abdul kadir
  2. abutalha625616@gmail.com : abu talha : abu talha
  3. asadkanaighat@gmail.com : Asad Ahmed : Asad Ahmed
  4. izharehaq24@gmail.com : mzakir :
বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ১২:০৭ পূর্বাহ্ন

সঙ্গিনী পর্ব-৩

মনজুর সা'দ
  • প্রকাশটাইম: বুধবার, ১২ মে, ২০২১

___আচ্ছা একটা কথা বলি?
__হু, বলো।

___যদি আমি বেঁচে না থাকি আমাদের যে সন্তান হবে তাকে তুমি একজন মানুষ বানাবে।আদর্শ মানুষ। এ সমাজে মানুষ আছে প্রচুর কিন্তু আদর্শ মানুষ নেই।

___আরে ধুর! তুমি বাঁচবে না কেন?
আল্লাহ যেন আমাদের এ সুখের সংসারকে দীর্ঘ করে দিন! চলো। এখন শুবে।

___আরেকটু থাকি না।

__ উঁহু। চলো তো। ঘুমে চোখ বুজে আসছে।
কথা বলতে বলতে সিঁড়ি বেয়ে নিচে নামছিল ওরা। হঠাৎ আফিফা পা পিছলে সিঁড়ি থেকে পড়ে গেল। রিফাত একটুর জন্যে তাকে ধরতে পারল না। মাথায় প্রচন্ড আঘাত পেলো আফিফা। মাথা ফাটে নি তবে রক্ত জমে গেছে। রিফাত কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কী করবে কিছুই ভেবে পায় না। দেয়ালের সাথে গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকে। রিফাতের বাবা -মা এসে পানি ঢালে বেশ কিছু সময়। কিন্তু ব্যথা ধীরে ধীরে বাড়তেই থাকে।


রিফাতের বাবা মুহসিন সাহেব তড়িঘড়ি করে এম্বুলেন্স নিয়ে আসে। বাসার সামনে এম্বুলেন্সের পে পু শব্দ আসছে রিফাতের কানে কিন্তু সে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।





হাসপাতালের লবিতে বসে আছে রিফাত। মুহূর্তের মধ্যে জীবনের এক কালো অধ্যায় নেমে এলো। রিফাত অন্যমনষ্ক হয়ে তাকিয়ে আছে দেয়ালের দিকে। আফিফাকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ঘন্টা খানিক আগে।দুশ্চিন্তার পাহাড় মাথার ভেতর শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। একটু আগে গম্ভীর মুখে ডাক্তার এসে বলল,
___সম্ভবত রোগীকে বাঁচাতে পারব না। তবে আপনাদের বাচ্চাটাকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করব। বাকিটা আল্লাহর ইচ্ছে।’

রিফাত কথা শুনে ‘থ’ বনে গেছে।কথা বলার চেষ্টা করছে কিন্তু বলতে পারছে না।
কিছু আঘাত মানুষকে ভেতর থেকে বোবা বানিয়ে দেয়।




হাসপাতালের করিডোরে পায়চারি করতে লাগল।

রিফাতের বাবা বাইরে থেকে খাবার নিয়ে এসে বলল,রিফাত!বাবা একটু মুখে দে। দু’দিন থেকে কিছুই খাস নি। এখন একটু খা। রিফাতের খেতে ইচ্ছে করছে না।রিফাতের আম্মু বললো, তোর বাবা এতো করে যখন বলছে একটু মুখে দে।




পাঞ্জাবির হাতা গুটিয়ে বেসিনে হাত ধোয়ার জন্য গেল।বেসিনের আয়নায় নিজের অবয়ব দেখে আঁতকে উঠল। এ কী,গত দুই দিনে দশ বছর বেড়ে গেছে মনে হচ্ছে। চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে গেছে।
মুখ শুকিয়ে গেছে। একটুও ঘুমোতে পারে নাই।গত দুই রাত।পেছন থেকে তার আম্মু বলল,কিরে তুই দাঁড়িয়ে আছিস ক্যান? যা না বাপ। তোর বাবা খাবার নিয়ে বসে আছে।চেহারায় পানির ঝাপটা দিয়ে রুমে চলে গেল। খাওয়ার জন্য প্লেটে হাত দিবে এমন সময় এক নার্স এসে বলল,’২০৬ছয় নাম্বার রুমে আসেন। আপনাদের নতুন মেহমান আসছে…

সমাপ্ত

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
copyright 2020:
Theme Customized BY MD MARUF ZAKIR