1. abutalha6256@gmail.com : abdul kadir : abdul kadir
  2. abutalha625616@gmail.com : abu talha : abu talha
  3. asadkanaighat@gmail.com : Asad Ahmed : Asad Ahmed
  4. izharehaq24@gmail.com : mzakir :
শুক্রবার, ২৫ জুন ২০২১, ০৩:০০ পূর্বাহ্ন

সুচিন্তার নায়ক আল্লামা মনসুরপুরি : সরল ও শান্তিপ্রিয় দেওবন্দী আলেমের বিদায়

মাসউদুল কাদির
  • প্রকাশটাইম: শনিবার, ২২ মে, ২০২১

বাংলাদেশে দারুল উলূম দেওবন্দ থেকে যারা আসতেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে সরল ও সুন্দর মানুষটির নাম জমিয়তে উলামা-ই-হিন্দ-এর চেয়ারম্যান দারুল উলূম দেওবন্দের সহকারী সুপার মাওলানা কারী সৈয়দ মুহাম্মদ উসমান মনসুরপুরী। তার ব্যক্তিত্বসম্পন্ন পথচলা আমাকে মুগ্ধ করতো। তার নেতৃত্বও ছিলো খুবই শান্ত ও সুশৃঙ্খল। ভারতের ইতিহাসের সঙ্গে এ মানুষটির নাম আজীবন মিশে থাকবে। ভারতীয় পতাকা ও মুসলমান মননে তিনি জায়গা করে নিতে সক্ষম হয়েছিলেন। আমি গভীর শোক জ্ঞাপন করছি। মরহুমকে আল্লাহ তাআলা জান্নাতের সুউচ্চ মাকাম দান করুন।



মাওলানা কারী সায়্যিদ মুহাম্মদ উসমান মনসুরপুরীর তিরোধানে শোক জানিয়েছেন বিশ্ব আলেম নেতৃত্ব। জমিয়তে উলামা হিন্দের গুরুদায়িত্ব পালন করছিলেন মাওলানা মনসুরপুরী। শোকসন্তপ্ত জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ-এর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মাহমুদ মাদানী। বলা যায় মাহমুদ মাদানীর ডান হাত যেনো ভেঙে পড়েছে। সমগ্র ভারতে এত বিস্তৃত কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করতেন মাহমুদ মাদানী। দলের মাথায় বসে শান্ত ও সুবোধ মানুষটির মতো সংগঠনকে সামনের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন হাদিসের মসনদের রাজকীয় কিংবদন্তি মনসুরপুরী।



সংবাদ মাধ্যমের খবরে জানা যায়, মাওলানা কারী সায়্যিদ মুহাম্মদ উসমান মনসুরপুরী শুক্রবার (২২ মে ২০২১) বিকেলে গুরুগ্রামের মাইন্দা হাসপাতালে মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দেন। হযরত করোনার ভাইরাস জটিলতায় ভুগছিলেন। ১৯ মে তাকে মাইন্দা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান।
মাওলানা মনসুরপুরী ভারতের একজন সম্মানিত শীর্ষ আলেমেদ্বীন ছিলেন। তিনি একই সঙ্গে এশিয়ার বৃহত্তম দুটি প্রতিষ্ঠান যেমন দারুল উলূম দেওবন্দ ও জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ-এর গুরু দায়িত্বে ছিলেন। ২০০৮ সালের মার্চ থেকে তিনি জমিয়তে উলামা-ই-হিন্দের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

হযরত মাওলানা মারগুবুর রহমান- এর ইন্তেকালের পরে তিনি ২০১০ সালে আমির-উল-হিন্দ হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৯৫ সাল থেকে জমিয়তের মজলিসে আমেলার সদস্য ও এবং জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ-এর ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য ছিলেন। মুসলমানদের এই প্রাচীন সংগঠনকে বুকে ধারণ করে বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাকে জেলেও যেতে হয়।

হযরত ফিদায়ে মিল্লাত মাওলানা সৈয়দ আসাদ মাদানী রহ.-এর নেতৃত্বে মূলক ও মিল্লাত বাঁচাও আন্দোলনে ১৯৭৯ সালে জেলে গিয়েছিলেন মাওলানা মনসুরপুরী। হযরত ফিদায়ে মিল্লাত মাওলানা সৈয়দ আসাদ মাদানী রহ.-এর ইন্তেকালের পরে তিনি হাল ধরেন জমিয়তে উলামা হিন্দের। তার নেতৃত্বে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু করে এবং শান্তির ইসলামের বাণী প্রচারের জন্য দিল্লী ও দেওবন্দে বিশ্বমানের ‘পিস ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স’ এর আয়োজন করে। এতে ভারতীয় মুসলমানদের উপর চাপিয়ে দেয়া জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আলেম ও মুসলমানদের অবস্থান স্পষ্ট হয়। হাজার হাজার মুসলিম তরুণ জেল থেকে ছাড়া পায়। অনেক ক্ষেত্রে ভুল বোঝাবুঝিরও অবসান ঘটে।


হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সুরক্ষায় যথেষ্ট অবদান রেখেছেন মাওলান উসমান মনসুরপুরী। তিনি সংখ্যালঘুদের সংরক্ষণের লক্ষ্যে সংঘাত-বিরোধী সহিংসতা বিল উত্থাপনে, আজমির শরীফে মুসলমানদের শ্রেণি বৈষম্য দূরীকরণে অবদান রাখেন। দিল্লি দাঙ্গার শিকার এবং এর আগে বিহার, কাশ্মীর এবং মুজাফফরনগর ও আসামের বন্যার শিকারদের পুনর্বাসনে দুর্দান্ত অবদান রাখেন।
এটা স্পষ্ট করেই বলা যায় ভারতের তরুণ নেতা জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ-এর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মাহমুদ মাদানী একজন আদর্শ পরামর্শদাতা ও শিক্ষক হারিয়েছেন। জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ-র চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পরে তিনি সর্বদাই তাঁর দূরদর্শিতা ও প্রজ্ঞায় তাকে পথ প্রদর্শন করে আসছিলেন। মাহমুদ মাদানী স্পষ্টতই বলেছেন, আজ আমি এক পরামর্শদাতা, শিক্ষক হারিয়েছি।

তিনি দারুল উলূম দেওবন্দের প্রাক্তন উপ-সুপারিনটেনডেন্ট, হাদীসের অধ্যাপক শায়খুল ইসলাম হযরত মাওলানা সায়্যিদ হুসাইন আহমদ মাদানী রহ. জামাতা ছিলেন। তার বিয়ে পড়িয়েছিলেন শাইখুল হাদিস আল্লামা যাকারিয়া রহ.।


মাওলানা কারী সৈয়দ মুহাম্মদ উসমান মনসুরপুরীর জন্মস্থান মুজফফরনগর জেলা মনসুরপুর। যেখানে তিনি সাদাতের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে ১৯৪৬ সালের ৫ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেছিলেন। মাওলানার ঘর আলোকিত করে রেখেছে বিশ্ববিখ্যাত দুই আলেম। এক. মুফতী সালমান মনসুরপুরী ও দুই. মাওলানা আফ্ফান মনসুরপুরী। তারা শাহী মুরাদাবাদ মাদরাসার দায়িত্বে রয়েছেন।
বাংলাদেশে বেশ কয়েকবার হযরতের বয়ান শোনার সুযোগ হয়েছেন। এত শান্ত ও সুন্দর আদর্শের প্রতীক আমি খুব কম দেখেছি। আল্লাহ তাআলা হযরতকে জান্নাতের উঁচু মাকাম দান করুন। আমীন।

লেখক : সহকারী সম্পাদক, দৈনিক আমার বার্তা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
copyright 2020:
Theme Customized BY MD MARUF ZAKIR