1. abutalha6256@gmail.com : abdul kadir : abdul kadir
  2. abutalha625616@gmail.com : abu talha : abu talha
  3. asadkanaighat@gmail.com : Asad Ahmed : Asad Ahmed
  4. izharehaq24@gmail.com : mzakir :
বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১, ১০:২০ অপরাহ্ন

কবি নজরুলের ‘গাহি সাম্যের গান’ কবিতায় আমাদের সমাজ-বাস্তবতা

সৈয়দ মবনু
  • প্রকাশটাইম: শনিবার, ২৯ মে, ২০২১

কাজী নজরুল ইসলাম একদিন সাম্যের গন গাইতে গিয়ে বলেছিলেন মানুষ থেকে বড় কিছু নেই এবং কোনকিছু মহিয়ানও নয়। তাঁর বর্ণিত এই সাম্যে ভেদ ছিলো না দেশ-কাল-পাত্র, ধর্ম,জাতির। মানুষের অন্য কোন জাত নেই মানুষ ছাড়া।


এরপর নজরুল সেই চিত্র বললেন যেভাবে মন্দিরে দেবতার সামনে খাদ্যের ভাণ্ডার রেখে ক্ষুধার্ত মানুষদেরকে ফিরিয়ে দেয় ‘পূজারী এবং মসজিদের শিরণী বিতরণকারী মোল্লা। মসজিদ এবং মন্দিরের তালা ভাঙতে নজরুল ডাকতে থাকেন ‘কোথা চেঙ্গিস,তৈমুর, গজনী-মামুদ, কোথায় কালাপাহাড়?
ভেঙে ফেল ঐ ভজনালয়ের যত তালা-দেওয়া-দ্বার!
খোদার ঘরে কে কপাট লাগায়, কে দেয় সেখানে তালা?
সব দ্বার এর খোলা রবে, চালা হাতুড়ি শাবল চালা!’
বর্তমানে এসি আর টাইলস লাগানোর প্রতিযোগিতায় মসজিদগুলোতে যেভাবে জামাতের সময় ছাড়া থালা লাগানো থাকে তা দেখে আমার মাঝমধ্যে মনে হয় নজরুলের মতো কাউকে ডেকে এনে তা ভেঙে দিতে। মসজিদ সবসময় খোলা থাকবে ইবাদতের জন্য। চুরির ভয় থাকলে মূল্যবান জিনিস রাখতে পৃথক রোম তৈরি করা যেতে পারে, তবু মসজিদ বন্ধ করা যাবে না।
এরপর নজরুল বলেছেন, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান প্রমূখরা আজ গরীবদেরকে উপেক্ষা করছেন। অথচ তারা যে মহামানবকে মান্য করেন তারা তো আমাদের মতোই মানুষ। বলা যায় না একদিন আমিও তাদের মতো হয়ে যেতে পারি। অতপর তিনিই বললেন, -হেসো না বন্ধু! আমার আমি সে কত অতল অসীম,
আমিই কি জানি-কে জানে কে আছে, আমাতে মহামহিম।’



এরপর নজরুল বিভিন্ন সম্প্রদায় থেকে উঠে আসা মহামানবদের নাম নিয়ে বলেন, ‘কে জানতো ওরা যে একদিন তোমাদের সম্মানের, তোমাদের পূজার পাত্র হয়ে যাবেন।’ তিনি হিন্দুদেরকে বললেন, ‘হয়ত গোপনে ব্রজের গোপাল এসেছে রাখাল সাজে! চাষা ব’লে কর ঘৃণা! দে’খো চাষা-রূপে লুকায়ে জনক বলরাম এলো কি না!’
অতপর মুসলিমদেরকে বললেন,

‘যত নবী ছিল মেষের রাখাল, তারাও ধরিল হাল, তারাই আনিল অমর বাণী-যা আছে র’বে চিরকাল।’

নজরুল অহংকারি পশু চরিত্রের মানুষদের চিন্তায় আঘাত দিতে অবশেষে বললেন,

‘বন্ধু, তোমার বুক-ভরা লোভ, দু’চোখে স্বার্থ-ঠুলি,
নতুবা দেখিতে, তোমারে সেবিতে দেবতা হ’য়েছে কুলি।
মানুষের বুকে যেটুকু দেবতা, বেদনা-মথিত সুধা,
তাই লুটে তুমি খাবে পশু? তুমি তা দিয়ে মিটাবে ক্ষুধা?
তোমার ক্ষুধার আহার তোমার মন্দোদরীই জানে
তোমার মৃত্যু-বাণ আছে তব প্রাসাদের কোন খানে!
তোমারি কামনা-রাণী
যুগে যুগে পশু, ফেলেছে তোমায় মৃত্যু-বিবরে টানি।’



নজরুলের এই কবিতার আবেদন আমাদের মানব সমাজে ততদিন থাকবে যতদিন এই সমাজে থাকবে মানুষের মধ্যে অার্থনৈতিক কারণে বৈষম্য, ধর্মীয় কিংবা জাতিগত কারণে সংঘাত। আর এগুলো কোনদিন শেষ হবে না। কারণ, এগুলো মানুষের মৌলিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে। তাই নজরুলের কবিতার আবেদন থাকবে চিরকাল দেশ থেকে দেশান্তরে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
copyright 2020:
Theme Customized BY MD MARUF ZAKIR