1. abutalha6256@gmail.com : abdul kadir : abdul kadir
  2. abutalha625616@gmail.com : abu talha : abu talha
  3. asadkanaighat@gmail.com : Asad Ahmed : Asad Ahmed
  4. izharehaq24@gmail.com : mzakir :
রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ০২:২৪ পূর্বাহ্ন

পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা: কানাইঘাটের আগতালুক গ্রামে গোষ্ঠি প্রথা দ্বন্দ্ব চরমে

কানাইঘাট প্রতিনিধি
  • প্রকাশটাইম: বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন, ২০২১

কানাইঘাট ঝিংগাবাড়ী ইউপির আগতালুক গ্রামে যে কোন সময় গোষ্ঠি প্রথার আধিপত্যের জের ধরে প্রাণহানীর মতো রক্তক্ষীয় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে পারে বলে স্থানীয় এলাকাবাসী জানিয়েছেন। গোষ্ঠি প্রথার জের ধরে সম্প্রতি সময়ে গ্রামের ২ পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলায় কয়েক জন আহত হয়েছেন। এ নিয়ে উভয় গোষ্ঠির লোকজন গ্রামে আধিপত্য ধরে রাখার জন্য প্রচুর দেশীয় ধারালো অস্ত্র সস্ত্রসহ লাঠি সোটা, সেল, সুলফি নিয়ে মহড়া অব্যাহত রাখায় এলাকার মানুষ শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। থানা পুলিশ কয়েকবার দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার এবং এসব হামলার সাথে জড়িতদের আটকের জন্য অভিযান করলেও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অস্ত্র সরিয়ে ফেলে গ্রাম থেকে অনেকে আত্মগোপনে চলে যান বলে এলাকার লোকজন জানান। এলাকার সচেতন মহল বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়াতে এব্যাপারে দ্রুত এগিয়ে আসার জন্য সিলেটের বিজ্ঞ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন পিপিএম এর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পুলিশ প্রশাসন এগিয়ে না আসলে বর্তমানে ২ গোষ্ঠির মধ্যে যে সংঘাত শুরু হয়েছে তা নিরসন হবে না বলে বৃহত্তর ডাকনাইল ও গাছবাড়ী এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তি বর্গ জানিয়েছেন।




কারণ উভয় পক্ষের লোকজন এলাকার কোন ধরনের শালিস বিচারে সাড়া দিচ্ছে না। সরেজমিনে আগতালুক গ্রামে গিয়ে আশপাশ এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আগতালুক গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য হারুন রশিদ ও মাওলানা জসিম উদ্দিন গোষ্ঠিন লোকজনের মধ্যে জমিজমাসহ নানা বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। ২০১৮ সালে এলাকার বিশিষ্ট ব্যাক্তির্বগ ও মুরব্বীয়ানদের উদ্যোগে শালিসে বসে এ ২ গোষ্ঠির লোকজনদের মধ্যে চলা দ্বন্দ্ব সামাজিক ভাবে নিষ্পত্তি করে দেন। দু’ক বছর ২ গোষ্ঠির লোকদের মধ্যে কোন ধরনের অপ্রতিকর ঘটনা না ঘটলেও প্রায় বছর দিন থেকে পুরানো দ্বন্দ্ব আবারো লোকজনের মধ্যে মাথা ঝাড়া দিয়ে উঠে। জমিজমাসহ নানা ঘটনা নিয়ে বেশ কিছু অপ্রতিকর ঘটনা ঘটে ২ গোষ্ঠির লোকজনের মধ্যে। এতে বেশ কয়েকজন মারাত্মক ভাবে পাল্টাপাল্টি হামলায় আহত হন।



আশপাশ এলাকার গ্রামের লোকজন জানান, আগতালুক গ্রামে আধিপত্য ধরে রাখার জন্য হারুন রশিদ ও মাওলানা জসিম উদ্দিন তাদের গোষ্ঠির পরিধি বাড়ানোর জন্য গ্রামের অন্যান্য গোষ্ঠির লোকজনদের তাদের গোষ্ঠিতে বিড়াচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, হারুন রশিদ ও জসিম উদ্দিন পক্ষের লোক জনের মধ্যে মাথা ঝাড়া দিয়ে উঠার পুরোনো দ্বন্দ্ব নতুন করে শুরু হয়েছে। উভয় পক্ষ গ্রামে শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য দেশীয় অস্ত্রর মজুদ করে রেখেছে। থানা পুলিশ বারবার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চেষ্টা করে যাচ্ছে। উভয় পক্ষের লোকজনদের মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য থানার ওসি তাজুল ইসলাম পিপিএম চেষ্টা করে গেলেও কোন সমাধান হচ্ছে না।



হারুন রশিদ গোষ্ঠির পক্ষের লোকজনের অভিযোগ, বর্তমানে গ্রামে যে অপ্রতিকর ঘটনা ঘটছে এ জন্য সম্পূর্ণ দায়ী মাওলানা জসিম উদ্দিন পক্ষের লোকজন। কয়েক মাস আগে জসিম উদ্দিন গংরা হারুন রশিদ পক্ষের কবির উদ্দিনের ক্ষেতের বেশ কিছু ফসলী জমি জোর পূর্বক ভাবে দখল ও কয়েকটি গাছপালা কেটে নিয়ে যায়। জমির মালিক কবির উদ্দিন ও তার পরিবারের লোকজন এতে বাধা দিলে জসিম উদ্দিন পক্ষের লোকজন তাদের মারধর করে। এ নিয়ে কয়েকদিন পূর্বে হামলায় আহত হন মাওলানা জসিম উদ্দিনের চাচাতো ভাই কামাল উদ্দিন। এ ঘটনায় কানাইঘাট থানায় হারুন রশিদসহ অন্তত ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন মাওলানা জসিম উদ্দিনের চাচাতো ভাই হেলাল উদ্দিন। এ মামলায় অনেককে আসামী করা হয়েছে যারা হামলার সাথে জড়িত ছিলেন না বলে স্থানীয়রা জানান। হামলা ও মামলার জের ধরে গ্রামে ২ গোষ্ঠির মধ্যে শুরু হয় চুরাগুপ্ত হামলাসহ দেশীয় অস্ত্রের মহড়া। যার কারণে বর্তমানে প্রাণের ভয়ে অনেকে বাড়ী থেকে বের হতে সাহস পাচ্ছেন না। গত শনিবার বিকেলের দিকে মাওলানা জসিম উদ্দিন পক্ষের অর্ধশাতাধিক লোকজন একত্রিত হয়ে দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লাঠি সোটা নিয়ে স্থানীয় সীমার বাজারের আশপাশে অবস্থান নেন। এসময় সীমার বাজারে অবস্থানরত হারুন রশিদ গোষ্ঠিন লোকজন হামলার ভয়ে আতংকিত হয়ে পড়লে পাল্টা এ গোষ্ঠির বেশ কিছু লোকজন দেশীয় ধারালো অস্ত্র ও লাঠি সোটা নিয়ে সীমার বাজারে যাবার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন বাজারের পশ্চিম পাশের পাকা রাস্তায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে মাওলানা জসিম উদ্দিনের চাচাতো ভাই হেলাল উদ্দিন এবং হারুন রশিদ পক্ষের আব্দুল্লাহ, নজরুল ইসলাম, কবির উদ্দিনসহ কয়েকজন আহত হন।

এ হামলার ঘটনায় জসিম উদ্দিন পক্ষের লোকজন থানায় ২০/২৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। অপর দিকে হারুন রশিদ পক্ষের একজন কয়েকদিন পূর্বে হামলায় আহত হলে জসিম উদ্দিন পক্ষের কয়েক জনকে আসামী করা হয়।



হারুন রশিদ পক্ষের লোকজনের অভিযোগ, মাওলানা জসিম উদ্দিন মাদ্রাসার একজন শিক্ষক হয়ে তার গোষ্ঠির লোকজনদের নিয়ে নানা ধরনের উস্কানী মূলক কর্মকান্ডে লিপ্ত রয়েছেন। অত্যান্ত কুরুচিপূর্ণ ভাবে তাদের পক্ষের লোকজনদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো হচ্ছে। প্রচুর ধারালো অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে জসিম উদ্দিন পক্ষের লোকজন গ্রামে মহড়া দিচ্ছে, পাল্টাপাল্টি দুটি মামলা করে তাদের লোকজনদের বাড়ী ছাড়া করছে। ভয়ে বেশিভাগ তাদের লোকজন বাড়িঘর ছাড়া এমনকি তাদের অনেকের বাড়িতে হামলা করা হচ্ছে। থানায় জসিম উদ্দিন পক্ষের লোকজন যারা হামলার সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে তারা অভিযোগ দিলেও তা রেকর্ড করা হচ্ছে না। যার কারণে জসিম উদ্দিন পক্ষের লোকজন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।



অপরদিকে মাওলানা জসিম উদ্দিন পক্ষের লোকজনের অভিযোগ, আগতালুক গ্রামে বর্তমানে যা হচ্ছে তার জন্য দায়ী হারুন রশিদ পক্ষের লোকজন। তারা গ্রামে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। পাল্টাপাল্টি হামলা করে তাদের পক্ষের লোকদের আহত করছে। বর্তমানে কামাল উদ্দিন ও তার ভাই হেলাল উদ্দিন চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ভয়ে তাদরে পক্ষের লোকজন বাজারঘাটে যেতে পারছেন না। একপক্ষ অপর পক্ষকে কোন ধরনের ছাড় না দিয়ে এভাবে দায়ী করে আসছে যার কারণে ২ পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংঘাত থামছে না।

২ পক্ষের মধ্যে চলা বিরোধ নিরসনের জন্য বৃহত্তর ডাকনাইল ১৪ পরগনার মুরব্বীয়ানরা উদ্যোগ নিলেও মাওলানা জসিম উদ্দিন পক্ষের লোকজন এতে সাড়া দিচ্ছে না বলে অনেকে জানিয়েছেন। ২ গোষ্ঠির মধ্যে চলা সংঘাত সংঘর্ষ নিরসনে সিলেটের পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকার সচেতন মহল। থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ তাজুল ইসলাম পিপিএম জানিয়েছেন, আমরা আধুনিক সামজে বসবাস করছি। সম্প্রীতির মাধ্যমে সবাই একসাথে গ্রামে বাস করব এখানে গোষ্ঠি প্রথার ভিত্ত থেকে সবাইকে বেরিয়ে আসতে হবে। আগতালুক গ্রামে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিত স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সক্রিয় রয়েছে। কেউ গোষ্ঠি প্রথার দোহাই দিয়ে এলাকায় বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে আমরা কাউকে ছাড় দেব না। বর্তমানে ২ গোষ্ঠির লোকজনের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে তা নিরসনের জন্য এলাকার জনপ্রতিনিধি ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে আমি কথা বলেছি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
copyright 2020:
Theme Customized BY MD MARUF ZAKIR