1. abutalha6256@gmail.com : abdul kadir : abdul kadir
  2. abutalha625616@gmail.com : abu talha : abu talha
  3. asadkanaighat@gmail.com : Asad Ahmed : Asad Ahmed
  4. izharehaq24@gmail.com : mzakir :
রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ০৩:৫১ পূর্বাহ্ন

একজন ইসলামী গজল সম্রাটের কথা

মাওলানা আমিনুল ইসলাম কাসেমি
  • প্রকাশটাইম: শুক্রবার, ১৮ জুন, ২০২১

আইনুদ্দীন আল আজাদ এক বিপ্লবী ইসলামী সঙ্গীত শিল্পীর নাম। যাকে বলা হয় ইসলামী গজল সম্রাট। মানুষ তাঁকে ইসলামী গানে চেনে। এমন কিছু মরমী গান তাঁর আছে, যেগুলো কাল থেকে মহাকাল চলতে থাকবে। মানুষের হৃদয় থেকে মুছে যাবে না কোনওদিন।



“ওরা শিক্ষিত শয়তান” সেই বিশ বছর আগের লেখা গান। কিন্তু এখনো বাজারের সেরা। তাছাড়া সর্বস্তরের মানুষের মন জয় করা গান। এসব গানের সাথে কোন দলাদলি নেই। গানের মধ্যে নেই কোন দলান্ধতা। এনাগাড়ে তিনি গেয়েছিলেন। যেটা আজো স্রোতাদের মুখে মুখে।



তিনি কিন্তু গানকে পেশা বানান নি। তিনি একজন সংগঠক। ছাত্র সংগঠন করে বেড়াতেন। কিন্তু সংগঠনের কাজ করতে গিয়ে দেশের অবস্থার আলোকে তাঁর মুখ থেকে উচ্চারিত হয়েছে সমাজের কথা,রাষ্ট্রের কথা। যেটা সঙ্গীত হিসাবে তখন রূপ নিয়েছে। এজন্য দেখা যায় তাঁর প্রতিটি এ্যালবাম ব্যতিক্রমধর্মী। কোন ব্যবসায়িক সফলতা লাভের গান নয়। বরং রাষ্ট্রের মানুষের অনিয়ম এবং অনৈতিকতা দেখে তিনি সঙ্গীতের মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় তোলেছেন। এবং তাঁর কথাগুলো ছিল বাস্তবতার সাথে মিল।

আইনুদ্দীন আল আজাদ একজন চিন্তক মানুষ ছিলেন। যিনি দেশ এবং দেশের যুবসমাজ নিয়ে চিন্তা করেছেন। তিনি যুবসমাজকে অন্ধকার জগৎ থেকে ফেরাতে চেয়েছেন। তাঁর কথা ছিল, যুবসমাজ কী চায়? তাদের অশ্লীলতার বিকল্প আমি ইসলামী গান উপহার দিতে চাই। সেই চিন্তা থেকে তাঁর ইসলামী গানের দিকে অগ্রযাত্রা শুরু হয়। এবং তিনি ইসলামী সঙ্গীতের বীজ রোপণ করেছিলেন এই দেশে। যে কারণে এখন দেশের আনাচে- কানাচে ছড়িয়ে – ছিটিয়ে রয়েছে প্রতিভাধর ইসলামী সঙ্গীত শিল্পী।



আইনুদ্দীন আল আজাদের বড় অবদান তিনি স্রোতের তালে মিশে যান নি। বরং খরস্রোতে নিজেকে অটল- অবিচল রেখেছেন। কেননা শিল্পীর জগৎ কিন্তু মসৃণ নয়। তবে যতই বাহবা তিনি কুড়িয়েছেন,তত তিনি নিজেকে গোপন করে রাখার চেষ্টা করেছেন।

যেমন চরমোনাই এর ময়দানে গাওয়া তাঁর এক শ্রেষ্ঠ গজল বলা যায়।সেদিন লক্ষ লক্ষ ভক্তদের হৃদয়ে যে আগুন তিনি জ্বালিয়েছিলেন আজো নেভে নি। সে জ্বালা বয়ে বেড়াচ্ছে মাওলার পাগলেরা।

” ইশকের আগুনে পুড়ে হলাম ছাই”,,,,, ,,,।

আহ, যখন তিনি এই গানটি গেয়েছিলেন। পুরো ময়দানে খৈ ফোটা শুরু হয়েছিল। আর কিছুক্ষণ গাইলে হয়ত ময়দানের পাগল মানুষদের ঠেকানো যেতনা। ভাবাবেগে বেকরার হয়ে পড়েছিলেন অনেকে।
তাঁর এই গান থেকে বুঝা যায় অসাধারণ এক ব্যক্তিত্ব আইনুদ্দীন আল আজাদ। যেমন বিপ্লবী তেমন তিনি ইলমে তাসাউফের উচ্চ শিখরে বিচরণ করতেন।

সঙ্গীতাঙ্গনে এক আজীব দৃশ্যের অবতারণা করে গেছেন তিনি। এই বাংলাদেশের জমিনে যেটার আবিষ্কারক তিনি। ইসলামী শিল্পীদের মাথায় পাগড়ী তুলে দিয়েছেন। “কলরব”গঠন করে সকল সদস্যদের পাগড়ী পরে সঙ্গীত গাওয়ার প্রবণতা তিনি সৃষ্টি করলেন।সেটা এখন এমন ভাবে কবুল হয়েছে, ইসলামী গান যে দলের শিল্পী পরিবেশন করুক,তার মাথায় পাগড়ী থাকতে বাধ্য।নচেৎ সে গান কিন্তু আর স্রোতারা তেমন গ্রহণ করতে চায় না। এজন্য শুধু কলরব এর মাথায় পাগড়ী নয়,পাগড়ী এখন সকল ইসলামী সঙ্গীত শিল্পীর মাথায়।



সংস্কারক বলা যায় তাঁকে। ইসলামী গানের মাধ্যমে সমাজকে সংস্কার করতে চেয়েছিলেন।যুবসমাজকে ভ্রান্ত চিন্তা- চেতনা এবং অশ্লীলতার হাত থেকে রক্ষা করে আদর্শবান যুবক গড়ার স্বপ্ন ছিল তাঁর। এই মিশনে তিনি নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন। নিঃস্বার্থ ভাবে বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া যুবকদের দোরগোঁড়ায় পৌঁছে সঠিক – সুন্দর মেসেজ দিয়েছিলেন তিনি। তাঁকে সফল বলা যায়।আজ ঘরে ঘরে ইসলামী সঙ্গীত বেজে ওঠে। এটা তাঁরই অবদান।

জীবনের শেষ প্রান্তে এসে নিজের অজান্তে গেয়ে উঠেছিলেন,

” পদ্মা – মেঘনা – যমুনার তীরে
কত ঢেউ চলে যায় আসে না তো ফিরে’

মর্মস্পর্শি গান তাঁর। গানটি তাঁর ইন্তেকালের পরে ব্যাপক ভাবে জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। বাংলাদেশের ৬৮ হাজার গ্রামে বেজেছে বহুদিন যাবত।সে শুনেছে সে চোখের পানি ফেলেছে। এ গান আজো মানুষকে কাঁদায়। আসলে তিনি ইসলামী সঙ্গীত জগতের সম্রাট ছিলেন। তিনি এখনো অতুলনীয়।তাঁর স্থান এখনো পূরণ হয় নি। মহহান আল্লাহর কাছে কায়মনোবাক্যে দুআ করি। জান্নাতুল ফিরদাউসে তাঁর স্থান হোক। আমিন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..
copyright 2020:
Theme Customized BY MD MARUF ZAKIR