1. info@izharehaq.com : MZakir :
রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ০৩:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আহলে সুন্নতের ফিক্বাহ শাস্ত্রের ইমাম: ইসলামী আমলের ক্ষেত্রে বিদয়াতীদের চক্রান্ত আহলে সুন্নতের আক্বীদামতে মহানবীর মর্যাদা: অতি ভক্তি কিসের লক্ষণ রেজভীদের চক্রান্ত হুবহু ইবনে সাবার চক্রান্তের মত: রাসূলকে আলিমুল গাইব বলা সাবায়ী চক্রান্ত: আহলে সুন্নত ওয়াল জমা’ত সুবিন্যস্ত হওয়ার ইতিহাস কুরআন ও হাদীসের ভাষায় ছিরাতে মুস্তাক্বীম বা সোজা পথ: নবুওয়াত ও রিসালত: মওদুদীবাদ ইবাদত: মওদুদীবাদ কুরআন মাজীদ ও দ্বীনের সংরক্ষণ: কুরআন সংরক্ষণের অর্থ: কুরআন সংরক্ষণে খোদায়ী ব্যবস্থাপনা: মওদুদীবাদ দ্বীন কী? দ্বীনে নূহ: দ্বীনে ইব্রাহীম: দ্বীনে ইসমাঈল: দ্বীনে ইউসুফ: দ্বীনে মূসা: দ্বীনে ঈসা: মওদূদীবাদ মওদুদী সাহেবের শিক্ষা-দীক্ষার পরিধি গোয়েবলসীয় নীতি : হিটলারের ঐ মুখপাত্রও ”জামাত-শিবিরের মিথ্যাচারের কাছে হার মানায়”: পর্ব ১ ইক্বামাতে দ্বীনের তাৎপর্য এবং বাতিলপন্থীদের বিকৃত ব্যাখ্যা সাহাবাগণ রাঃ সত্যের মাপকাঠি এবং তাদের ইজমা সর্বসিদ্ধান্ত মতে শরীয়তের দলীল সাহাবা রাঃ গণ সত্যের মাপকাঠি খোলাফায়ে রাশেদীনগণের সোনালী আদর্শ সর্বসম্মতিক্রমে শরিয়তের দলীল শায়খ আলিমুদ্দীন দুর্লভপুরী”র ঐতিহাসিক ও তাত্বিক বক্তব্য: “তাঁরাই সত্যের মাপকাঠি” শায়খ আলিমুদ্দীন দুর্লভপুরী”র ঐতিহাসিক ও তাত্বিক বক্তব্য: সাহাবায়ে কেরাম “সত্যের মাপকাঠি: মিয়ারে হক: সত্যের মাপকাঠি: কুরআন-হাদীস এবং মওদূদী সাহিত্যের আলোকে: পর্ব-৬ মিয়ারে হক: সত্যের মাপকাঠি: কুরআন-হাদীস এবং মওদূদী সাহিত্যের আলোকে: পর্ব-৫ মিয়ারে হক: সত্যের মাপকাঠি: কুরআন-হাদীস এবং মওদূদী সাহিত্যের আলোকে: পর্ব-৪

রেজভীদের চক্রান্ত হুবহু ইবনে সাবার চক্রান্তের মত: রাসূলকে আলিমুল গাইব বলা সাবায়ী চক্রান্ত:

মাওলানা নূরুল ইসলাম ওলীপুরী
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ২৮ মে, ২০২৪
  • ৬৩ বার পড়া হয়েছে

রেজভীদের চক্রান্ত হুবহু ইবনে সাবার চক্রান্তের মত



আহলে সুন্নত ওয়াল জমা’তের প্রামাণ্য কিতাবাদিতে ” আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ আলিমুল গাইব নন” এ কথা পরিষ্কার ভাবে উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও বিদয়াতী রেজভীরা মহানবী সা.-কে আলিমুল গাইব (গাইব জাননে ওয়ালা) বলে দাবি করে। অথচ নিজেদেরকে আহলে সুন্নত ওয়াল জমা’ত বলে দাবি করে একদিকে সরল মুসলমানকে ধোঁকা দিয়ে যাচ্ছে, অপরদিকে যারা এহেন কুফ্রি আক্বীদা পোষণ করেন না, পাল্টা তাদেরকে ওয়াহাবী, কাফির বলে গালিগালাজ করে বেড়াচ্ছে!
আর এসবগুলি চক্রান্তই তারা করে যাচ্ছে কুখ্যাত মুনাফিক ইবনে সাবার অনুসৃত কায়দায়। অর্থাৎ, মহানবী সা.-কে শ্রেষ্ঠ মর্যাদা দেবার বাহানায়। হুবহু এ অপকৌশলটা অবলম্বন করেই কুখ্যাত ইবনে সাবা মুসলমানদের মধ্যে আক্বীদাগত মতভেদ সৃষ্টি করতঃ পরস্পরে কোন্দল ও রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা সৃষ্টির সূত্রপাত করেছিল। যার সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নরূপ :-
কুখ্যাত আব্দুল্লাহ বিন সাবা ইয়ামন দেশের রাজধানী সান’আ শহরের বাসিন্দা ছিল। ধর্ম বিশ্বাসে ছিল ইহুদী। তার মা ছিল অত্যন্ত কালো। এ জন্য তাকে ইবনে সাওদা বা শ্যামলিনীর পুত্র বলা হত। এই কুখ্যাত ইবনে সাবা ছিল অত্যন্ত ধূর্ত। তাওরাত ও ইঞ্জিল কিতাবের বিষয়বস্তু সম্পর্কে ছিল খুব জ্ঞাত। আরবী ভাষায়ও ছিল পারদর্শী। নিজের ভ্রান্ত মতবাদে শয়তানের মত অনড় এবং চক্রান্তে ছিল অত্যন্ত পটু।
সে যখন দেখল, সকল মুসলমান সুন্নতে রাসূল এবং জমা’তে সাহাবার আদর্শমতে ইসলামের বিশুদ্ধ আক্বীদা বিশ্বাসে অটল ও ঐক্যবদ্ধ থাকায় কোন শত্রুই তাদেরকে ঘায়েল করতে পারছে না এবং নিজেরাও পরস্পরে কোন্দলে লিপ্ত হচ্ছে না, তখনই সে ইসলাম গ্রহণের নামে মুসলমানদেরকে ধোঁকা দিয়ে তাদেরকে পারস্পরিক কোন্দলে লিপ্ত করার ষড়যন্ত্র আঁটল।
এ ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নকল্পে সে সুদূর মদীনা শরীফ এসে হযরত উসমানের কাছে কালেমা পড়ে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দিল। তখন হযরত উসমান রা. ছিলেন রাসূলের তৃতীয় খলীফার পদে আসীন। কিছুদিন মদীনা শরীফে অবস্থান করতঃ হযরত উসমান রা.-এর বিরোধিতার মাধ্যমে গোটা মুসলিম সাম্রাজ্যে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কোন্দল সৃষ্টির রূপরেখা তৈরি করল। সে রূপরেখার ভিত্তি স্থাপন করেছিল হযরত রাসূলে করীম সা.-কে মর্যাদা দেয়া এবং তাঁকে মহব্বত করার উপর। অর্থাৎ, রাসূল সা.-কে সম্মান করা এবং তাঁর ভালবাসাকে বাহানা করেই মুসলিম সমাজে কোন্দল সৃষ্টির রূপরেখা তৈরি করল। এ রূপরেখার ভিত্তিতেই সে মুসলমান সমাজে প্রচারাভিযান চালালো যে, ওই সমস্ত মুসলমানের ধর্মবিশ্বাসে আমি আশ্চর্য হই, যারা হযরত ঈসা আ.-এর পৃথিবীতে পুনরাগমনে বিশ্বাস করে, অথচ সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদার অধিকারী হযরত মুহাম্মদ স.-এর পৃথিবীতে পুনরাগমনে বিশ্বাসী নয়।
আর রাজনৈতিকভাবে মুসলমানদের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টির লক্ষ্যে সে প্রচার করতে লাগল, হযরত আলী রা. রাসূলের “আহলে বাইত” বা পরিবারের সদস্য হিসেবে তিনিই ছিলেন রাসূলের প্রথম খলীফা হওয়ার যোগ্য। কিন্তু মুসলমানরা তাঁর পরিবর্তে অন্যদের (অর্থাৎ, যথাক্রমে হযরত আবু বকর, উমর ও উসমান রা.) কে খলীফা মনোনীত করে আলীর উপর জুলুম করেছে। এ জুলুমের প্রতিকারের জন্য হযরত উসমান রা.-কে খেলাফতের মসনদ থেকে উৎখাত করতঃ সেখানে আলীকে বসাতে হবে। এই অপপ্রচারের অভিযান সে মদীনা থেকে শুরু করে যথাক্রমে হিজায, বসরা, কুফা এবং সিরিয়ায় চালিয়ে সফল হতে না পেরে অবশেষে মিশরে গিয়ে সফল হয়। সেখানকার কিছু অল্পশিক্ষিত ও অশিক্ষিত মুসলমানকে রাসূলের মর্যাদার বাহানা দিয়ে তার দলে দীক্ষিত করে নেয় ।(১)
পরবর্তীতে তার গঠিত দলই হযরত উসমান রা.-কে শহীদ করে। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আরও দুঃখজনক ব্যাপার হল, কুখ্যাত ইবনে সাবার কুচক্রান্ত্রমূলক প্রচারণার ফলে কিছু সরল মুসলমানও প্রতারণার জালে ফেঁসে তার দলভুক্ত হয়ে হযরত উসমান রা.-কে শহীদ করার ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন। তাই রেজভীদের কুচক্রান্তের ফলে কিছু সরল মুসলমান প্রতারিত হয়ে রেজভীদেরকে সুন্নী মনে করে প্রকৃত আহলে সুন্নত ওয়াল জমা’তকে ওয়াহাবী কাফির বলে গালিগালাজ করলে, তা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

(১) আল বেদায়া ওয়ান নেহায়া: ৭/১৬৭-৬৮, তারীখে তাবারী: ৪/৩৪০-৪১, তারীখে উম্মত: ১/৪০০-৪০১, তারীখে মিল্লাত: ১/২৩২-৫১।

সেই কুখ্যাত মুনাফিক ইবনে সাবা মুসলমান সমাজে কোন্দল সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে রাসূলের মর্যাদা ও তাঁর আহলে বাইতের মহব্বতের দোহাইকেই পুঁজি হিসেবে অবলম্বন করেছিল। হুবহু সেই অপকৌশলই অবলম্বন করছে আমাদের সমাজের বিদয়াতী রেজভীরা। এরাও রাসূলের মর্যাদা এবং রাসূলের মহব্বতের দোহাই দিয়ে সমাজে অজস্র বিদয়াতী কর্মকাণ্ড ও জ্বলন্ত কুফর ও শিরকি আক্বীদাসমূহকে সুন্নী কর্মকাণ্ড ও সুন্নী আক্বাইদ নামে প্রচার করে বেড়াচ্ছে।
এখানেই শেষ নয়; বরং এরা কুখ্যাত ইবনে সাবার কুযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে আরও এক ধাপ অগ্রসর হয়েছে। ইবনে সাবা তো বলেছিল, হযরত ঈসা আ. যদি শ্রেষ্ঠ নবী না হয়েও আবার পৃথিবীতে আসতে পারেন, তাহলে মহানবী সা. আসতে পারবেন না কেন? আর রেজভীরা সেই কুযুক্তির ভিত্তিতে আরেকটু অগ্রসর হয়ে বলে, টেলিভিশনের বক্তা যদি সকল মানুষের ঘরে ঘরে আসতে পারে, তাহলে মহানবী তা পারবেন না কেন? আকাশের চন্দ্র-সূর্য যদি একই মুহূর্তে সারা বিশ্বে হাযির হতে পারে, তাহলে মহানবী তা পারবেন না কেন?
এভাবে কুযুক্তি প্রদর্শন করতে করতে তাদের দলের এক নেতা আব্দুস সামী রামপুরী তার “রচিত আনোয়ারে সাতেয়া” নামক পুস্তকে লেখেন, শয়তান যদি মানুষকে গুনাহ করাবার জন্য সারা বিশ্বের যেখানে সেখানে যেতে পারে, তাহলে সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদার অধিকারী মহানবী সা. তা পারবেন না কেন?!
কী অদ্ভুত কুযুক্তি! ইবনে সাবা তো আমাদের মহানবীকে মর্যাদা দেয়ার নামে হযরত ঈসা আ.-এর মত নবীর সাথে তুলনা করেছিল। আর রেজভীরা সেই একই কায়দায় আমাদের মহানবী সা.-কে স্বয়ং শয়তানের সাথে তুলনা করল! অথচ আহলে সুন্নত ওয়াল জমা’তের আক্বীদা কারো মনগড়া যুক্তির দ্বারা নয়; বরং রাসূলের সুন্নত এবং সাহাবার জমা’তের দ্বারা প্রমাণিত হয়। যে কারণে এর নামকরণই করা হয়েছে আহলে সুন্নত ওয়াল জমা’ত। যা ভালভাবে স্মরণ রাখলে এ সব যুক্তিবাদীদের (?) খপ্পরে পড়ে ঈমান বরবাদ করতে হবে না।
আর যারাই এ গভীর চক্রান্তের বিরুদ্ধে কথা বলেন, রেজভীরা তাদেরকেই ওয়াহাবী, কাফির, রাসূলের মর্যাদা অস্বীকারকারী, রাসূলের দুশমন ইত্যাদি অপবাদ দিয়ে সরল মুসলমান সমাজকে ধোঁকা দিয়ে যাচ্ছে। তাই সর্বস্তরের মুসলমানের জন্য যেমন আহলে সুন্নত ওয়াল জন্মাতের সঠিক পরিচয় জানা দরকার, তেমনিভাবে আহলে সুন্নত ওয়াল জয়া’ত নামে প্রতারণাকারী এই বিদয়াতী রেজভী দলটি সম্পর্কেও অবগত হয়ে এদের প্রতারণা ও চক্রান্ত থেকে অত্যন্ত সতর্ক হওয়া দরকার। তাই কুখ্যাত ইবনে সাবার অনুসারী এই কুচক্রী রেজভী দলটি সম্পর্কে এ পুস্ত কের শেষের দিকে মোটামুটি আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ।


রাসূলকে আলিমুল গাইব বলা সাবায়ী চক্রান্ত



এদের কুচক্রান্তসমূহের একটা হল, সম্মান করার বাহানায় “মহানবী আলিমুল গাইব” বলাকে সুন্নী আক্বীদা নাম দিয়ে শিরকি ও কুফরি আক্বীদার প্রচলন করা। কারণ আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কুরআনে আলিমূল গাইব হওয়াকে একমাত্র তাঁর বৈশিষ্ট্যপূর্ণ গুণ বলে আখ্যায়িত করেছেন, ভাই রাসূলকে আলিমুল গাইব বলা যে সুন্নী আক্বীদা নয়; বরং কুফ্রি ও শিরকি আক্বীদা, তা বলাই বাহুল্য।
এতদ সত্ত্বেও আহলে সুন্নত ওয়াল জমা’তের ইমাম ও মনীষীগণ আহলে সুন্নতের কিতাবাদিতে পবিত্র কুরআনের আয়াত ও রাসূলের সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণ করেছেন যে, গাইব জানা একমাত্র আল্লাহপাকের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ গুণ, বিধায় রাসূল সা. বা অন্য কাউকে আলিমুল গাইব বিশ্বাস করা কুরি। যা শরহে ফিক্বহে আকবর কিতাবের বরাতে পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে।
সাথে সাথে যেসব বিষয়কে কেন্দ্র করে বাতিলপন্থীরা রাসূল বা অন্য কাউকে আলিমুল গাইব প্রমাণ করার অপচেষ্টা করতে পারে সেগুলির পরিষ্কার জবাবও উল্লেখ করেছেন। যেমন, শরহে আক্বাইদ নামক কিতাবে উল্লেখ আছে:-
وبالجملة، العلم بالغيب أمر تفرد به الله – تعالى – لاسبيل إليه للعباد إلا با علام منه، أو إلهام بطريق المعجزة والكرامة، وإرشاد إلى الاستدلال بالأمارات فيما يمكن فيه ذلك، ولهذا ذكر في الفتاوى، أن قول القاتل عند رؤية هالة القمر : يكون مطر، مدعيا علم الغيب لا بعلامته كفر.
অর্থাৎ, সারকথা হচ্ছে, ইলমে গাইব (গাইব জানা) এমন এক বিষয় যা একমাত্র আল্লাহ পাকের বৈশিষ্টা, যার অধিকারী হওয়ার কোন অবকাশ বান্দার নেই। অবশ্য আল্লাহ ওবণী অথবা এলহ্যামের মাধ্যমে নবীগণকে মু’জিনা হিসেবে এবং এলবামের মাধ্যমে ওলীগণকে কারামাত হিসেবে যা কিছু অগাজ করেন, অথবা বাজনাসমূহ দ্বারা প্রমাণ করার মত বিষয়সমূহকে প্রমান করার যে পথ প্রদর্শন করেন সেগুলির কথা ভিন্ন।
এ জনই ফতোয়ার কিতাবাদিতে উল্লেখ আছে, চন্দ্রের চতুর্দিকে চক্রাকারে মেষ দেখে যদি কেউ এটাকে বৃষ্টি হওয়ার লাক্ষণ না বলে গাইব জানার দাবি করে বলে যে, বৃষ্টি হবে, তাহলে এটা তার কুরি কথা হবে (১)
এখানে ওহী, এলহাম, লক্ষন ইত্যাদির মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর বান্দাকে যা কিছু অবগগত করেন সেগুলিকে ব্যাডিলাপন্থীদের পক্ষে ইলমে গাইবের অন্তর্ভুক্ত করার কোন সুযোগ নেই। কারণ এগুলি সম্পর্কে শরহে আত্মাইদের ব্যাখ্যাগ্রাহ ‘নিবরাস” এ উল্লেখ আছে:-
والتحقيق، أن الغيب ما غاب عن الحواس والعلم الضروري والعلم الاستدلالي، وقد نطق القرآن بقي علمه عمن سواه تعالى، فمن ادعى الله يعلمه كفر، ومن صدق المدعي كفر، وأما ما علم بحاسة أو ضرورة أو دليل فليس بغيب، ولا كفر في دعواه
অর্থাৎ, গাইব এর তত্ত্বপূর্ণ সংজ্ঞা হল, যা কিছু ইন্দ্রিয় শক্তি, স্বভাবগত মেধাশক্তি এবং দলীল প্রমাণ দ্বারা জানা যায় না, তা-ই গাইব। আর পবিত্র কুরআন এ কথা পরিষ্কার ভাষায় ঘোষণা দিয়েছে, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া কেউই গাইব জানে না। সুতরাং একমাত্র আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ গাইব জানার দাবি করলে সেতো কাফির হবেই, যারা তাকে বিশ্বাস করবে, তারাও কাফির হবে।
আর যা কিছু ইন্দ্রিয় শক্তি, স্বভাবগত মেধাশক্তি অথবা দলীল প্রমাণ দ্বারা জানা যায়, তা গাইব নয়। সুতরাং তা জানার দাবি করা কুফরি নয় (২)

(১) শরহে আত্মাইীদ: ১২২।
(২) নিররাস: ৩৪৩। 

অতঃপর উক্ত কিতাবের একই পৃষ্ঠায় আরো উল্লেখ আছে :-
بهذا التحقيق الدفع الإشكال في الأمور التي يزعم أنها من الغيب وليست منه لكونها مدركة بالسمع أو البصر أو الضرورة أو الدليل، فأحدها أخبار الأنبياء؛ لأنها مستفادة من الوحي.
অর্থাৎ, উপরোক্ত তাত্ত্বিক আলোচনার দ্বারা এমন প্রশ্নেরও নিরসন হয়ে গেল, যা ওই সব বিষয়ে জাগতে পারে যেগুলিকে গাইব মনে করা হয়, অথচ সেগুলি আসলে গাইব নয়। কারণ এগুলি হয়ত ইন্দ্রিয় শক্তির মাধ্যমে অথবা মেধাশক্তির মাধ্যমে অথবা দলীলের মাধ্যমে জানা যায়। এগুলোর ১ম প্রকার হল, নবীগণের প্রদত্ত সংবাদ। এগুলি যেহেতু ওহীর মাধ্যমে জানা যায়, তাই এগুলি গাইব নয়।
সারমর্ম হল, আল্লাহ তাঁর বান্দাকে কোন কিছুর মাধ্যমে যা জানতে দেন, যেমন সাধারণ মানুষ ইন্দ্রিয় শক্তির মাধ্যমে, বুদ্ধিমান মেধাশক্তির মাধ্যমে, সাধারণ মুসলমান আলিমগণের মাধ্যমে, আলিমগণ শরীয়তের দলীলের মাধ্যমে বা নবীর মাধ্যমে, ওলীগণ কাল্ফ ও এলহামের মাধ্যমে এবং নবীগণ ওহীর মাধ্যমে যা জানেন তা গাইব নয়।
সুতরাং এসব বিষয় জানাকে গাইব জানা বলা ভুল। এর মধ্যে সর্বোচ্চ মাধ্যম হল ওহী। ওহীর মাধ্যমে আল্লাহ তাঁর নবীগণকে যা জানান, তার নাম গাইব জানা নয়। অথচ কবর, হাশর, পুলসিরাত, জান্নাত, জাহান্নাম ইত্যাদি যেহেতু নবীগণকে ওহীর মাধ্যমে জানানো হয়, তাই নবীকে গাইব জাননে ওয়ালা বলা যাবে না।
এখানে এসে যদি নিতান্ত চাপাবাজি করেই কেউ নবীকে আলিমুল গাইব বলে, তাহলে এসব বিষয় তো নবীর মাধ্যমে উম্মতও জানে। তাই এবার উম্মতকে কী বলা যাবে? যদি বলা হয়, এসব বিষয় জানার কারণে উম্মতও আলিমুল গাইব হবে, এমতাবস্থায় নবীকে আলিমুল গাইব বলে তো তাঁকে আলাদা কোন মর্যাদা দেয়া হল না; বরং উম্মতের সমান সাব্যস্ত করা হল।
আর যদি বলা হয়, এগুলি নবীর মাধ্যমে জানার কারণে উম্মত আলিমুল গাইব হয়নি, তাহলে নবীও তো এগুলি ওহীর মাধ্যমেই জানতে পেরেছেন। তাই তিনি আলিমুল গাইব হলেন কিভাবে?
এসব কূটতর্কের অবসান ঘটিয়ে আক্বাইদের কিতাবাদিতে পরিষ্কার ভাবেই বলা হয়েছে, এগুলি জানাকে গাইব জানা বলে না; বরং কোন কিছুর মাধ্যম ছাড়া যিনি এসব জানেন কেবল তিনিই আলিমুল গাইব। যা একমাত্র আল্লাহ পাকের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ গুণ।
তাই শরহে ফিক্বহে আকবর নামক আক্বাইদের কিতাবে বলা হয়েছে, যারা বিশ্বাস করবে নবীয়ে করীম সা. গাইব জানেন, তারা কাফির। যা উদ্ধৃতি সহ পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে। আরও লক্ষ্যণীয় ব্যাপার যে, এ কথাটা হযরত ইমাম আবু হানীফা র.-এর নিজস্ব ইজতেহাদ বা ব্যক্তিগত গবেষণাজনিত কথা নয়; বরং এটা পবিত্র কুরআনের সূরায়ে নামাল এর ৬৫নং আয়াতের সুস্পষ্ট ঘোষণা।
আল্লাহ বলেনঃ-
قُلْ لا يَعْلَمُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ الْغَيْبَ إِلَّا اللَّهُ.
অর্থাৎ, হে রাসূল, আপনি বলে দিন, আসমান জমিনের কোন বাসিন্দাই গাইব জানে না, একমাত্র আল্লাহ ছাড়া।
সুতরাং এরপরও নবীর প্রতি অতিভক্তি দেখাতে গিয়ে নবী গাইব জানেন বলার মানেই হল সাবায়ী যুক্তির মাধ্যমে পবিত্র কুরআনের এ আয়াত অবিশ্বাস করা।
এতো পরিষ্কার কথা আহলে সুন্নত ওয়াল জমা’তের আক্বাইদের কিতাবে উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও এর বিরুদ্ধে জেরা করে আবার নিজেকে সুন্নী বলে দাবি করা জঘন্যতম চাপাবাজি এবং সাবায়ী চক্রান্ত ছাড়া আর কী হতে পারে?

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ ক্যাটাগরির আরো
© All rights reserved © 2019 www.izharehaq.com
Theme Customized BY Md Maruf Zakir